ববিতে ছাত্রী হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

ববিতে ছাত্রী হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
প্রতীকী ছবি

ববিতে ছাত্রী হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমনের বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইমন মূলত ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলো পরবর্তীতে ১২তম ব্যাচে সে পুনঃ ভর্তি হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি স্ট্যাটাসে ইমনের ম্যাসেজের কিছু স্ক্রিনশর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ইমন বেশ কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে নানান রকম ম্যাসেজ দিয়ে উত্যক্ত করতো। ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী।

ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা জনিত কারনে, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, “আমি কিছুদিন আগে লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলি আসার পথে দুইজন ছেলে আমার সাথে অটোতে উঠেছিলো এবং আসার পথে তারা আমাকে বিরক্ত করার ট্রাই করে। আমি রেসপন্স না করার পরও কথা বলতে চাওয়া, গা ঘেঁষে বসে থাকার চেষ্টা করে। এসব কাজে আমি খুবই বিব্রত হই।”

আরও পড়ুন- বর্ষা মাহিরের প্রেমের বলি জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ

তিনি বলেন, “তখন বুঝতে পারিনি যে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই ঘটনার কিছুদিন পর ওই ছেলের সাথে আমার ক্যাম্পাসে দেখা হলে আমি চিনে ফেলি। তবে একটু কনফিউজড থাকায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে, সে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং সেখানেও খুবই নোংরা ব্যবহার করে।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানান, “এই ঘটনার পর আমি আমার কিছু ফ্রেন্ডের সাথে এটা শেয়ার করলে, তখন আমার দুই-তিনজন ফ্রেন্ড জানায়, ওরা তখন রুপাতলি আমাকে দেখেছে। আর ওরা এই ছেলেকে আগে থেকে চিনে। তো ওরাই ওর নাম আমাকে জানায় যে সে বোটানি বিভাগের ইমন ছিলো। এরপর আমি ওর (ইমনের) সম্পর্কে যাদেরকেই জিজ্ঞেস করি সবাই ওর চরিত্র সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছে, তাতে আমার মনে হলো যে, ওর সাথে পার্সোনালি বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে গেলে ওর নোংরা কথা আমার সম্মানহানি করবে।”

একই কারনে পরিচয় অপ্রকাশের শর্তে ভুক্তভোগী আর এক শিক্ষার্থী জানান, “এই ছেলে আমাকে প্রথমে নক করে কথা বলার চেষ্টা করে, আমি ইগনোর করার চেষ্টা করলে আমাকে বলে—সে আমাকে অনেক পছন্দ করে। আমি মানা করে দিলেও সে নানা ভাবে আমাকে নক করতো, আমি রিপ্লাই করা বন্ধ করে দেই এবং আইডি রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়।”

আরও পড়ুন- জবি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় আটক ১, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইমনের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, “এরপর অবশ্য আমার সাথে আর কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন দেখছি শুধু আমাকে না, এরকম অনেককেই সে নক করে ডিস্টার্ব করে। এটা একধরনের ভায়োলেশন। আমি চায় এই ছেলে তার কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পাক।”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইমনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, “আমরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”