বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রধান ও গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় অনেক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। চুলা জ্বালানোর মতো পরিস্থিতিও নেই। পানিবন্দি হয়ে অনেক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় দুই-তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে বহু পরিবার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় প্রধান সড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাঁশখালীর সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া বাঁশ, মাটি ও টিন দিয়ে নির্মিত বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাঁশখালীর বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমাদের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে বৈলছড়ি এলাকায় একটি পরিবারের সাত সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রশাসন জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মসজিদে মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য এক বিবৃতিতে জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকায় তিনি সরাসরি এলাকায় যেতে না পারলেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল-ছড়া খনন, স্লুইস গেট সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন স্লুইস গেট নির্মাণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় বাঁশখালীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
