এশিয়ান হাতি সংরক্ষণে জাবিতে ‘দ্য কো-এক্সিস্টেন্স ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত

গন্ন এশিয়ান হাতি সংরক্ষণ, মানুষ ও হাতির সহাবস্থান এবং হাতির আবাসস্থল রক্ষায় করণীয় নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য কো-এক্সিস্টেন্স ডায়ালগ: পিপল, এলিফ্যান্ট অ্যান্ড শেয়ার্ড ল্যান্ডস্কেপস’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শাহরিয়ার অনির্বাণ এবং প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোস্তফা ইউসুফকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম ও মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এছাড়া জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের বসতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে এশিয়ান হাতির আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এতে মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে এবং মহাবিপন্ন এ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। হাতির চলাচলের করিডর ও আবাসস্থল রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক শাহরিয়ার অনির্বাণ ২০০৯ সাল থেকে পরিবেশ, বন, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন। সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী পাচার, হাতি সংক্রান্ত অপরাধ, বন ধ্বংস ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে তাঁর একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রয়েছে।

অন্যদিকে, মোস্তফা ইউসুফ এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিবেশ, বন, জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্য বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন। সুন্দরবন ও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন, কক্সবাজারে এশিয়ান হাতির আবাসস্থল দখল, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব এবং পরিবেশগত নানা সংকট নিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাংবাদিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত, হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।