জাবিতে নতুন ছয় হল চালুর বছর পেরোলেও নেই স্থায়ী নামফলক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসন সংকট নিরসনে নির্মিত নতুন ছয়টি আবাসিক হল চালুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনগুলোর সামনে এখনো স্থায়ী নামফলক স্থাপন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১০ তলাবিশিষ্ট এসব হলের কয়েকটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বসবাস করলেও ভবনের পরিচয় জানানোর মতো দৃশ্যমান ও স্থায়ী নামফলক নেই।

এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার লোকজনের হল শনাক্ত করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনায় নামফলক না থাকায় প্রশাসনিক উদ্যোগের ধীরগতিও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আবাসন সংকট নিরসন ও গণরুম সংস্কৃতি বিলুপ্তির লক্ষ্যে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণ করা হয়। হলগুলো হলো—রোকেয়া হল, শহীদ ফেলানী হল, বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, নবাব সলিমুল্লাহ হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল।

২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয় নতুন ছয়টি আবাসিক হল। ২০২৩ সালে হলগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সেগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়। ওই বছরের ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ছয়টি হলের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

নাম পরিবর্তন, নেই নতুন নামফলক

নতুন ছয় হলের মধ্যে দুটি হলের নাম পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ রাসেল হলের নাম পরিবর্তন করে নবাব সলিমুল্লাহ হল এবং ফজিলাতুন্নেসা হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ফেলানী হল করা হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুটি পুরোনো হলের নাম পরিবর্তন করা হয়।

নাম পরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে নতুন নামের স্থায়ী নামফলক স্থাপন করা হয়নি। ফলে হলগুলোর পরিচিতি ও নামফলক—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

নামফলক না থাকায় বিড়ম্বনা

নতুন আবাসিক হলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক নতুন অংশে অবস্থিত। ফলে এসব ভবনের সামনে স্থায়ী নামফলক না থাকায় নতুন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার লোকজনকেও অনেক সময় হল শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়তে হয়।

শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিটি হলের সামনে স্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন নামফলক স্থাপন করা হলে ভবনগুলোর পরিচিতি স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যও বাড়ত। দীর্ঘদিনেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস

নামফলক স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী বলেন, ‘আমি এর আগে আগের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তখন আমি নামফলকের একটি আনুমানিক নকশা ও ব্যয়ের হিসাবও দিয়েছিলাম। এখন আমি নিজেই প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি। বিষয়টি নিয়ে ছয় হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর আমরা একটি সভা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন ছয়টি আবাসিক হলের প্রতিটির সামনে দ্রুত স্থায়ী, দৃষ্টিনন্দন ও অভিন্ন নকশার নামফলক স্থাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশেষ করে যেসব হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, সেসব ভবনে পুরোনো নামের পরিবর্তে নতুন নামের স্থায়ী ফলক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আবাসন সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত নতুন ছয়টি হল ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে হল নির্মাণ, নাম নির্ধারণ ও শিক্ষার্থী ওঠার পরও ভবনের পরিচয় জানানোর মতো নামফলক স্থাপন না হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক সমন্বয় ও উদ্যোগের ঘাটতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।