পাবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারি, আহত ২

ফুটবল খেলায় ফাউল করাকে কেন্দ্র করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্যানেলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত দুজনই সাধারণ সম্পাদক প্যানেলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।আহত শিক্ষার্থীরা হলেন গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উজ্জ্বল এবং রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইমন।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জুলাই-৬ হল মাঠে মিনিবার ফুটবল খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাকিব রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনকে ফাউল করেন। পরে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাগর ইমনকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একাধিকবার আঘাত পাওয়ার পর ইমন খেলা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

‎খেলা শেষে ফাউল করাকে কেন্দ্র করে ইমন ও সাগরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমন সাগরকে থাপ্পড় মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

‎এরপর উভয় পক্ষ তাদের পরিচিত সিনিয়র, জুনিয়র ও ব্যাচমেটদের ডেকে মাঠে জড়ো করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই গণিত বিভাগের উজ্জ্বল, নিশান, ইইই বিভাগের ওলি উল্লাহ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

‎একপর্যায়ে উত্তেজনা বেড়ে গেলে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের রাসেল তাঁর দুই ব্যাচ সিনিয়র গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উজ্জ্বলকে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে উজ্জ্বলের মাথার চারটি স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাত হয়।

‎আঘাত পাওয়ার পর উজ্জ্বল লাঠিসোঁটা নিয়ে রাসেলের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

‎আহত শিক্ষার্থী উজ্জ্বল বলেন, “আমি রাতে হলে ফিরছিলাম। মাঠে গণ্ডগোল দেখে পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যাই। এ সময় রাসেল আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথার একাধিক জায়গায় ক্ষত হয়েছে।”

‎অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, “আমি গণ্ডগোল থামাতে গিয়েছিলাম। উজ্জ্বল আমাকে আগে আঘাত করেন। ভিড়ের মধ্যে হয়তো তাঁর গায়ে আমার আঘাত লেগে থাকতে পারে।”

‎সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “আগামীকাল ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান থাকায় ছাত্রদলের উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আপাতত হোল্ড রাখা হয়েছে। আগামী শনি বা রবিবারের দিকে আমরা বিষয়টি নিয়ে বসব। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হেডলাইন লাইন-ব্রেক (শব্দের মাঝে ↵ চাপুন)
প্রিফিক্স ও প্রতি লাইনের ফন্ট সাইজ ও কালার
লাইন স্পেসিং
--
হেডলাইনের পজিশন