জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোতে আয়োজনের বিষয়ে দ্রুত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে আসন্ন ৫৬ ব্যাচ থেকেই তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে জাবি শিবির। ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও বর্তমানে বিষয়টি পুনরায় একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভর্তি-প্রত্যাশী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে দ্রুত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটি মনে করে, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়াকে সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দূরবর্তী জেলা থেকে সাভারে এসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হয়। বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন করা হলে এসব ভোগান্তি ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে চলতি মাসে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সভা আয়োজন করে বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সময়সূচি দ্রুত নির্ধারণ, ভর্তি-সংক্রান্ত সার্কুলার ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও শিক্ষার্থীস্বার্থবান্ধব ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং আসন্ন ৫৬ ব্যাচ থেকেই বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন কার্যকর করতে হবে।