ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে ইউসুব আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাসের সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব অর্জনের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিকে উন্নত মূল্যবোধ ও পরিপক্বতার প্রত্যাশায় তাকিয়ে থাকে। জাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে শিক্ষার্থীদের আচরণেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত।
তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে গতকাল দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে বাসে ঝামেলা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিগত বিষয়কে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে টেনে এনে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ইউসুব আলী আরও বলেন, মানুষের জীবনে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা ভুল বোঝাবুঝি থাকতেই পারে। তবে ব্যক্তিগত বিষয়কে বিভাগীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে টেনে এনে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার কোনো অর্থ নেই। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া হতাশাজনক এবং একজন সচেতন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের পরিচয়—আমরা এই জাতির মেধাবী সন্তান। আসুন, রাগ-অভিমান বা ক্ষোভকে প্রশ্রয় না দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সুন্দর সমাধান করি। প্রতিহিংসা ও হানাহানি পরিহার করে চলুন, আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে বজায় রাখি।”
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বাসে উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে বাংলা বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে তর্কাতর্কি হয় পরে এটি রূপ নেয় হাতাহাতিতে। এতে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাক ফেটে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
সেই ঘটনার মীমাংসা করতে দুই বিভাগের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। মীমাংসা মনঃপূত না হওয়ায় প্রক্টর অফিস থেকে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বের হলে বাইরে অবস্থান করা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে দুই শিক্ষক আহত হয় এবং এক শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক আটকিয়ে অবস্থান নেয়। বিচারের আশ্বাসে বিভাগের শিক্ষকদের অনুরোধে প্রধান ফটক ছেড়ে দেয় তারা।