জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান ও সার্বিক বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম। তবে এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো শিক্ষককে সেখানে উপস্থিত দেখা যায়নি।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রক্টর অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে মোহাইমিনুল ইসলামকে একটি বিশেষ পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে হয়েছিল। এ ঘটনাকে তাঁরা সম্ভাব্য একাডেমিক অবিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে তাঁরা ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁকে অথবা বিভাগের কোনো শিক্ষককেই প্রক্টর অফিসে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন। পরে তাঁর আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সুইসাইড নোটে উল্লিখিত বিভাগীয় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তাঁর অবস্থান শনাক্তে সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত মোহাইমিনুল ইসলামের সন্ধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।