ঝিনাইদহে বিরোধীদলীয় নেতা • সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা এক দফা হবে

সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা এক দফা হবে
ঝিনাইদহে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : জামায়াতের সৌজন্যে

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে সাত দফা আন্দোলন এক দফার পতন আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করে ঢাকামুখী কর্মসূচির কথা জানান তিনি।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের ৭ দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি একেবারেই পরিষ্কার। যে সাত দফা দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি, তা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়—এই দাবি দেশের ১৮ কোটি মানুষের।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। এর মধ্যে একটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সেই জনরায় অস্বীকার করে সরকার দেশের মানুষকে অপমানের সামিল করেছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট অস্বীকার করা হলে সরকারের যেমন বৈধতা থাকে না, তেমনি বিরোধী দলেরও থাকে না। গণভোট বাস্তবায়ন না করে ১৪০০ শহীদ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে ছোট করা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি জনগণের শান্তিমতো বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তবে আমাদের এই ৭ দফা এক দফায় পরিণত হবে। সরকার ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নিলে আর লংমার্চ করার দরকার হবে না। নয়তো পুরো দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঢাকা ঘেরাওয়ের নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। রাজপথের লড়াইয়ে ফ্যসিবাদ হেরে যাবে এবং সাধারণ জনতার জয় হবে।’

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশে যেন আর নতুন করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণ না ফিরে আসে, আমরা একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন করপোরেশন ও সরকারি অফিসগুলোকে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তর করেছে। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় দ্বিতীয় শ্রেণি পাস অদক্ষ লোক বসিয়ে সংস্থাকে অকার্যকর করা হচ্ছে। দেশকে একটি সঠিক ধারায় ফেরাতেই ১১ দল রাজপথে নেমেছে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বক্কর এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপিসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের সূচনা হয়। পথিমধ্যে শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর এবং ঝিনাইদহের কালিয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক পথসভা করে লংমার্চের বহর।

ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালের জনসভা শেষে বহরটি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হবে।

হেডলাইন লাইন-ব্রেক (শব্দের মাঝে ↵ চাপুন)
প্রিফিক্স ও প্রতি লাইনের ফন্ট সাইজ ও কালার
প্রিফিক্স
লাইন স্পেসিং
--
প্রিফিক্স স্পেস
হেডলাইনের পজিশন