জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আপত্তিকর অবস্থায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক সাবেক ছাত্রী ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক এক ছাত্রকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে নিরাপত্তা শাখায় মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পথ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেলেও স্থায়ী সিসিটিভি অপারেটর না থাকায় ফুটেজ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি ও সিসিটিভি পরিচালনায় প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক দুজন হলেন- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র আলফি সরকার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী আরবী রশীদ ঐশী।
নিরাপত্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত টহলের সময় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে তাদের দেখতে পান। এ সময় গাড়িতে জন্মনিয়ন্ত্রণের কনডমের প্যাকেট পাওয়া যায়। পরে তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রবেশপথ নিয়ে বক্তব্যে অসংগতি
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলফি সরকার দাবি করেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইলসংলগ্ন উত্তর গেট দিয়ে প্রবেশ করেছেন। তবে ওই গেটে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাদের দেখেননি এবং প্রবেশ করাননি বলে জানান।
দুজনের বক্তব্যের অসংগতি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী অপারেটর না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেগুলোর ফুটেজ দ্রুত যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে সিসিটিভি পরিচালনায় স্থায়ী অপারেটর নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আটকের পর তদবিরের অভিযোগ
এদিকে, আটকের পর ওই ছাত্রকে ছাড়িয়ে নিতে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে আটককৃত আলফি জানান, তাকে প্রাইভেটকার থেকে বের করার সময় তিনি নিজেই বলেন এটা আপোষ করা যায় কি না।
তার ভাষ্য, আমাকে বের করার পর আমি বলি, ভাই আমি কিছু টাকা দিচ্ছি। বিষয়টি আপোষ করা যায় কি না একটু দেখেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এর বিপরীতে না বলে তাদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যেতে বলেন।
মুচলেকায় মুক্তি
আটকের পর ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা অফিসে মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পথ নিয়ে পাওয়া পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়া এবং ঘটনার পর তদবিরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী অপারেটর নিয়োগ, নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার এবং এ ধরনের ঘটনায় অনুসরণীয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।