গোপন সমঝোতায় আরপিও সংশোধনী বাতিল হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

প্রাথমিকে নৃত্য শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি মিয়া গোলাম পরওয়ারের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি : মিয়া গোলাম পরওয়ারের টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে নেওয়া

গোপন সমঝোতায় আরপিও সংশোধনী বাতিল হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গোপন সমঝোতার মাধ্যমে যদি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর সর্বশেষ সংশোধনী বাতিল করা হয়, তবে তা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ নষ্ট করবে। এতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আজ শনিবার (২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী আরপিও সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনী জোট থাকলেও প্রতিটি দলের প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিএনপির এক নেতার সঙ্গে সরকারের এক উপদেষ্টার তথাকথিত ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’-এর ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যদি কোনো নিবন্ধিত দলের প্রার্থীকে জোটভুক্ত অন্য দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গের ন্যক্কারজনক উদাহরণ। এটি শুধু নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নয়, গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধার্থে বা কোনো উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সমঝোতার কারণে সরকারের অনুমোদিত আইনি সংশোধনী বাতিল হলে সেটি অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক পদক্ষেপ হবে। এতে জনগণের আস্থা হারাবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে।”

তিনি মনে করেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত আরপিও বহাল রাখা ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে অনুমোদিত আরপিও বহাল রাখা হোক। কোনো গোপন চুক্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থে যদি এটি পরিবর্তন করা হয়, তবে সেটি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করবে।”