নিরাপত্তা, চাপ নাকি অন্য কিছু—তারেক রহমানের দেশে না ফেরার আড়ালে কি?
২০০৮ সাল থেকে দেশের বাইরে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রবাসজীবন, রাজনৈতিক উত্তাপ, মামলার বোঝা—সব মিলিয়ে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান-পূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাকে দেশে ফেরার সুযোগ করে দেয়নি।
তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশীয় রাজনীতির হাওয়া অনেকটাই বদলে গেছে। পুরোনো অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, ভয়-আশঙ্কার চোরাবালিও যেন খানিকটা সরেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—পরিস্থিতি এত অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান কেন এখনো দেশে ফিরছেন না?
এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে সম্প্রতি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতির কারণে। ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন তিনি। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দেশি-বিদেশি ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এখন প্রস্তুতি চলছে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার।
আরও পড়ুন- বিজয়ের মাসে হোক নতুন প্রতিজ্ঞা
মায়ের এমন সংকটময় মুহূর্তেও সন্তানের দেশে না ফেরা জনমনে দোলাচল তৈরি করেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আলোচনা— সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই- “মায়ের এমন অবস্থায়ও কি তিনি দেশে ফিরবেন না?”
জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। নভেম্বরে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছিল। এমনকি বিবিসি বাংলাকেও তিনি বলেছেন—“দেশে ফেরার সময় হয়ে গেছে।” কিন্তু সময় পেরিয়েছে, আলোচনা জমেছে, সিদ্ধান্ত আসেনি।
বিএনপির ভেতরেও এখন স্পষ্ট মত—দলের এই সংকটময় সময়টিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরাটা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে বসে অনলাইনে একটি বড় রাজনৈতিক দলকে পরিচালনা করা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তার উপর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে। তার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরার দায়িত্বও তারেক রহমানের।
সম্প্রতি তার একটি ফেসবুক পোস্ট আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি লিখেছেন— “দেশে ফেরা একা তার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।” এ বক্তব্য থেকেই নতুন গুঞ্জন— তিনি কি নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় দেশে ফিরছেন না? নাকি আন্তর্জাতিক মহলের চাপ রয়েছে? পাসপোর্ট নেই বলেই কি ফিরতে পারছেন না? কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কারণে দেশে ফেরার পথে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে?
বাংলাদেশ সরকার বলছে—তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারের আইন উপদেষ্টা পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— তার দেশে ফিরতে কোনও আইনি জটিলতা নেই। তাহলে সমস্যাটি কোথায়?
সবকিছুর পরও প্রশ্নটি থেকে যায়— এত অনুকূল সময়, দলের অভ্যন্তরীণ চাপ, মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থা—তারপরও কেন তিনি দেশে ফিরছেন না? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। আপাতত সেটিকে সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে তার অনুসারীদের আশা- হয়তো শীঘ্রই ফিরবেন তিনি।