আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা : আসিফ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের শর্তে এবং তাদের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নোয়াখালীর হাতিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটের দিন ও পরবর্তী হামলায় গুরুতর আহত এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের কর্মীরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জনগণের পূর্ণ সমর্থন না পেয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। আওয়ামী লীগের অফিসগুলো নতুন করে চালু হওয়া প্রমাণ করে যে, তাদের পুনর্বাসনের শর্তেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। নিষিদ্ধ একটি দলের কার্যক্রম এভাবে চলতে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা এবং এটি আইনবিরোধী।’
হাসপাতালে আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর আসিফ মাহমুদ জানান, সারাদেশে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে এনসিপি শক্তিশালী ছিল, সেখানেই আক্রমণের মাত্রা বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেককে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের এখন বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু ভোট দেওয়ার অপরাধে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের নারী সদস্যদের গয়না ও অর্থ লুট করা হচ্ছে।’
আসফি মাহমুদ বলেন, ‘মনে রাখবেন, ৪০ থেকে ৪৬ শতাংশ মানুষ যদি আপনাদের ভোট না দিয়ে থাকে, তবে তাদের দমন করে দেশ চালানো যাবে না। তাদের ওপর দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।’
অন্তর্বর্তী সরকার ও সম্ভাব্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সহিংসতার দ্রুত বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতির কাছে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।’
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভারত সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো কোনোভাবেই উচিত হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।