জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৮ম ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টায় জামালপুর শহরের লুয়েজ ভিলেজ পার্কে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে জাবিপ্রবির দুই শতাধিক নবীন শিক্ষার্থীসহ প্রায় চারশত জন অংশ নেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাসামগ্রী ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপহার হিসেবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে পবিত্র কুরআন শরিফ, ইসলামিক বই, কলেজ ব্যাগ, কলমদানি, কলম, চাবির রিং ও দোয়ার স্টিকার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “ইসলামে মানুষের কল্যাণ সাধন এবং হালাল উপার্জনের লক্ষ্যে জ্ঞানার্জন করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরকে কেবল উপভোগের সময় মনে না করে প্রথম বর্ষ থেকেই ক্যারিয়ারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “দেশে এখনো যথাযথ টেকনিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রি-ভিত্তিক শিক্ষার সংকট রয়েছে। সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষার কারণে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়। এই অচল শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি।”
উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়ে সাদ্দাম আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যেতে হলে ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রোগ্রামিংয়ের মতো সফট স্কিল অর্জন জরুরি। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির জন্য প্রথম বর্ষ থেকেই পরিকল্পিত একাডেমিক গ্রুপ স্টাডি গড়ে তোলা প্রয়োজন।” এ ছাড়া তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ মেধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান।
শিবিরের এমন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ফিশারিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা নয়, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের মাধ্যমে কীভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে হয়, তা আমরা এই আয়োজন থেকে শিখেছি। অতিথিদের প্রতিটি কথাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—যদি এ দেশে আবারও অন্যায়ের পদচিহ্ন নেমে আসে, তবে আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ১০ বছরের ছোট্ট আনাসের মতো আমরাও দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে পিছপা হব না।”
একই আয়োজনে অংশ নেওয়া আরেক নারী শিক্ষার্থী উপহার পেয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “আমাদেরকে সবচেয়ে দামি উপহার হিসেবে পবিত্র আল-কোরআন দেওয়া হয়েছে, যা মানুষের সারা জীবনের মুক্তির পথপ্রদর্শক। মানুষ যত গভীর অন্ধকারেই যাক না কেন, কোরআন সাথে থাকলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। এমন একটি সুন্দর আয়োজনে জীবনের সঠিক পথগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।”
জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হেলাল উদ্দিন রুবেল।
এর আগে ‘ইসলাম ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি’ বিষয়ে আলোচনা করেন ছাত্রশিবিরের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার অফিস সম্পাদক ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক সভাপতি ডা. নিয়াজ রহমান এবং দারসুল কুরআন পেশ করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি নাজমুল হক সাঈদী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জামালপুর সদরের মেয়র পদপ্রার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুর রহমান।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জামালপুর জেলা আমির ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক আব্দুস সাত্তার।
