নির্বাচনের দিন থেকে এ পর্যন্ত হামলায় ১ হাজার নেতাকর্মী আহত : আসিফ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়া বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। বিশেষ করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের দিন বিএনপির হামলায় গুরুতর আহত কর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শর্তে এবং তাদের সমর্থন নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। দুই দলের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে এখন ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং বিএনপি এই পরিস্থিতি উপভোগ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভোট চুরির নির্বাচনের পর যেমন তাণ্ডব দেখা যেত, বর্তমানেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বারবার আহ্বান জানিয়েছি যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।’
বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ‘নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। চব্বিশ সালে আমরা দেখেছি জনগণের ওপর জুলুম করলে তার পরিণতি কী হয়। তাই একই পথে না হেঁটে সহিংসতা বন্ধ করুন।’
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।’
এনসিপি জানিয়েছে, সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।