‘জিয়াউর রহমানের সময়েই দেশ প্রকৃত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছিল’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা কাগজে-কলমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পাইনি। জিয়াউর রহমানের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা আসার পর বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবকিছু দূর হয়েগেল। আল্লাহর রহমতে, তাঁর সময়েই দেশ প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলার রূপান্তরিত হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, জীবদ্দশায় আমরা তাঁকে চিনতে পারিনি, যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি।’
শনিবার (৩০ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এদিন দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি শোকযাত্রা বের করা হয়। শোকযাত্রায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে শোকযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
অধ্যাপক এয়াকুব আলী আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে একদল বিপথগামী সেনা সদস্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। পরবর্তীতে তাঁকে ঢাকায় সমাহিত করা হয়। তাঁর জানাজা ছিল এ অঞ্চলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ গণসমাগমের একটি, যা তাঁর জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ।’
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অডিও বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’