বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে রাবিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, যাত্রা শুরু এসডব্লিউবিডিএসের
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির আয়োজন করেছে নবগঠিত সোশ্যাল ওয়ার্ক ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি (এসডব্লিউবিডিএস)।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমাজকর্ম বিভাগের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রাও শুরু হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম কনক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম, সমাজকর্ম সমিতির কোষাধ্যক্ষ ড. শরিফুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামীম হোসেন চৌধুরী। এছাড়া সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাজশাহী ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস রক্তদানের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জি. এম. আবদুল ওহাবসহ শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
আয়োজকরা জানান, রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছায় রক্তদানে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং জরুরি মুহূর্তে রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে একটি সংগঠিত রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আগ্রহী সকলের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের মতে, অনেকেই নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে অবগত নন। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই নিজের রক্তের গ্রুপ জানার ইচ্ছা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা উপকৃত হচ্ছি। পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পারছি।’
রক্তদান শেষে সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। এই চিন্তা থেকেই আমি রক্তদান করেছি। শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও এই সংগঠনের কোওর্ডিনেটর নাজিফা তাকিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে রক্তের প্রয়োজন হলে আমাদের অন্য সংগঠনের সহায়তা নিতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো রক্তদাতা পাওয়া কঠিন হয়ে যেত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সমাজকর্ম বিভাগের নিজস্ব ব্লাড ডোনেশন ক্লাব গঠনের চিন্তা আসে।’
তিনি বলেন, ‘বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং সিনিয়রদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় আজ আমাদের এই যাত্রা শুরু হলো। আমরা চাই, এই সংগঠন শুধু রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠুক।’
সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ মানবিক কাজ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, এসডব্লিউবিডিএস ভবিষ্যতে রক্তদানের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
