বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামছে আজ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে মাতিয়ে রাখা এই আসরের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। রাত জেগে খেলা দেখা। ধূমায়িত চায়ের কাপে ফুটবল আড্ডা, প্রিয় দলের জার্সি গায়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা আর প্রতিটি গোলে আনন্দে ভেসে যাওয়া। গত এক মাসে এমন দৃশ্য ছিল ঘরে ঘরে।
এবার শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিধর দলের এই ফাইনাল ঘিরে রোমাঞ্চ এখন তুঙ্গে। কার হাতে উঠবে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি। তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে ঘিরে নিজেদের প্রত্যাশা ও অনুভূতির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী। তাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন মনিরুল ইসলাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুবলী আহমেদ বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনাই শিরোপা জিতবে। তার মতে, আগের কয়েকটি ম্যাচের মতো শুরুতে কিছুটা কঠিন সময় এলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াবে স্কালোনির দল। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যেন প্রয়োজন মতো খেলেই জয় তুলে নিয়েছে। তাই তার ধারণা, ফাইনালের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
অন্যদিকে, স্পেনও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গোলরক্ষক উনাই সিমোন, লামিন ইয়ামাল ও মার্ক কুকুরেলার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে তাকে। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল দেখার প্রত্যাশা তার। তবে শেষ হাসি হাসবে আর্জেন্টিনাই।
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাজেদুর রহমান শুভ বলেন, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয় দেখার পর একজন সমর্থক হিসেবে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। তাই এবার চাপের চেয়ে উপভোগের অনুভূতিই বেশি। তবে প্রতিটি বিশ্বকাপ ফাইনালই নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চ। তার বিশ্বাস, লিওনেল মেসির অর্জনের মুকুটে আরও একটি বিশ্বকাপ যুক্ত হবে। শক্তিশালী স্পেন কঠিন লড়াই উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতেই।
ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থী বর্ষা মজুমদার বলেন, ২০১৪ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল। ২০১৮ সালেও হতাশা সঙ্গী হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের বিশ্বজয় সেই সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। এবারও দলীয় ভারসাম্য, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। স্পেন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাই আবারও বিশ্বকাপ জিতবে।
নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, জন্মের পর থেকে লিওনেল মেসির খেলা দেখেই ফুটবলের প্রেমে পড়েছেন তিনি। তাই এই ফাইনাল তার কাছে শুধু একটি ম্যাচ নয়, আবেগেরও নাম। যদি এটিই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়। তাহলে সেটি স্মরণীয় হোক বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে। তার একটাই চাওয়া, রোমাঞ্চে ভরা এই মহারণে শেষ হাসিটা যেন মেসিরই হয়। ভামোস আর্জেন্টিনা।