গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (১ আগস্ট) বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ মিছিলে শিবিরের নেতা-কর্মীরা ‘চান্দা লাগলে চান্দা নে, জুলাই সনদ মাইনা নে’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে রাবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার সরকার গঠন করার পর সেই গণরায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আপনারা ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে ৭০ শতাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করে জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছেন।’
অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৫ সালেও যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছিল, তখন বলা হয়েছিল দেশে শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। কিন্তু গণদাবির মুখে ১২ দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। যদি এই গণরায় ও জুলাই সনদ মেনে নেওয়া না হয়, তবে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে আবারও রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে আবারও শহীদ হতে আমরা প্রস্তুত।’
সমাবেশে শাখা শিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের সংস্কার কমিশন ও জুলাই সনদকে তোয়াক্কা না করার নীতি স্পষ্ট করছে যে তারা শিক্ষা নেয়নি। স্বৈরাচার হাসিনার মতো আচরণ করলে এ দেশের জনগণ বিএনপিকেও একই পরিণতি দেখাবে।’
বিক্ষোভ মিছিলে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।