বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। অনুষ্ঠানস্থলে মন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার পর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এগোতে থাকেন। এ সময় মিছিলের সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল।
এর ধারাবাহিকতায়, পরবর্তী সময়ে ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ জিতুকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি শোডাউন দেন। ক্যাম্পাসে বিএনপি নেতাদের আগে থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত না থাকা সত্ত্বেও এ শোডাউনে তাদের অংশগ্রহণ সাধারণ ছাত্রনেতাদের মাঝে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, আজ দলীয় প্রভাবে বিএনপি নেতারা যদি ক্যাম্পাসে এভাবে শোডাউন দেন, তবে কাল হয়তো জামায়াত নেতারাও শিবিরের সাথে এমন মহড়া দেবেন—যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও বজায় রাখা রাজনৈতিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
নোটিশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোকজপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, পরে জানাব।”