রাকসুর তহবিলের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ছাত্রদলের বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবন ১ এর সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে তারা ‘এক দুই তিন চার, রাকসুর সব বাটপার’, ‘ক্যাম্পাসের নতুন চোর, রাকসুর সব টাকাচোর’, ‘ভাউচার লাগলে ভাউচার নে, রাকসুর টাকার হিসেব দে’, ‘টাকা চুরি করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘কাজে কম মুখে জোর, রাকসুর সবাই টাকা চোর’, ‘কাজে কম মুখে জোর, আম্মার তুই টাকাচোর’, ‘গ্যালি গ্যালি মে শোর হে, রাকসুর স্যাব চোর হে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু রাকসু ভিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাকসুর ভিপি বারো তেরো হাজার ভোট পাননি কিন্তু তেরো লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে। তিনি আট লক্ষ টাকা বেশী দেখিয়েছেন, এই হিসাব তাকে দিতে হবে। কাজ শেষে গোঁজামিল দিয়ে হিসাব মিলিয়ে দেওয়া যাবে কিন্তু আতর দিয়ে টেস্টি ট্রিট এর বিরিয়ানি খাইয়ে যে ভোট নিয়েছিলেন সেই ভোটের আমানত রক্ষা করতে পারবেন?’

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আপনি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছিলেন না। তাদের দেওয়া ফি কি আপনি ব্যবহার করছেন না? আপনার লজ্জা লাগে না সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমানতের দায়িত্ব নিয়ে ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করতে?।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যদি ‘আলিবাবা’ হতে চান, তবে আপনার ‘৪০ চোর’ কোথায়? বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন চোর ধরা পড়েছে, যাদের মধ্যে প্রধান চোর, পাগলা কুত্তা, জন্মপরিচয়হীন সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন আম্মার। বাকি ৩০ জন চোর এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে, যাদেরকে ছাত্রশিবিরের মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে। তারা রাকসুর টাকা দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী রাকসু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেসব ফকিন্নির বাচ্চারা দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারত না, তারা আজ আমাদের টাকা আত্মসাৎ করছে। আমরা চেয়েছিলাম রাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে। কিন্তু তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাকসুতে বসে কীভাবে টাকা চুরি করা যায়, সেই চক্রান্ত করে। এদের পেট থেকে টাকা বের করে শিক্ষার্থীদের তহবিলে জমা করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

অর্থ খরচে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাহী আরও বলেন, ‘ছাত্রদল বিশ্বকাপ খেলা দেখাতে এলইডি স্ক্রিনে খরচ করেছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা। আর একই বড় পর্দায় খেলা দেখাতে রাকসু খরচ দেখিয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সময় আমাদের বুথ স্থাপনে খরচ হয়েছিল এক থেকে দেড় হাজার টাকা, সেখানে রাকসু একটিমাত্র বুথ তৈরিতে খরচ দেখিয়েছে ৩ লাখ টাকা।’

বক্তব্যের শেষে তিনি অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার জমা পড়েনি।