নিউইয়ার্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ‘হলিউডের কাল্পনিক গল্প’ বললেন আহমাদিনেজাদ
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের তথ্যদাতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর দাবিকে ‘হলিউডের কাল্পনিক গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তার কার্যালয়।
সম্প্রতি মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মোসাদ আহমাদিনেজাদকে নিজেদের ‘সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করছিল এবং ইরানের ক্ষমতার পালাবদলে তাকে নতুন নেতা হিসেবে বসানোর গোপন ছক কষেছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাদ বছরের পর বছর ধরে সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলন মূলত মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের গোপন বৈঠকের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকি তেহরানে বিমান হামলার সময় মোসাদ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে আহমাদিনেজাদের দফতর। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘এসব হলিউডি সিনেমার মতো কাল্পনিক গল্প। এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং এসব ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও আমরা মনে করি না।’
আহমাদিনেজাদের কার্যালয় আরও দাবি করেছে, নিউ ইয়র্ক টাইমস অর্থের বিনিময়ে এমন মনগড়া খবর প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন আহমাদিনেজাদ। তবে গত কয়েক বছরে ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্বের সাথে তার দূরত্ব অনেকটা বেড়েছে। এই সুযোগটিই ইসরায়েল কাজে লাগাতে চেয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে দাবি করেছে ওই মার্কিন পত্রিকা।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেহরানে আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়ালেও তার দফতর তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সম্পূর্ণ মুক্ত আছেন এবং নিয়মিত তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
