ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি থামানো এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য নয়। মার্কিন ভোক্তাদের জন্য তেলের দাম কমানোই এখন হোয়াইট হাউসের এক নম্বর অগ্রাধিকার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন জেবি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে খুব দ্রুত নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এই দুই নেতার এমন মন্তব্যের পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তেহরান কৌশলগতভাবে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই এই সামরিক অভিযানের মূল কারণ হিসেবে প্রচার করে আসছিলেন।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পরমাণু ইস্যুটি এখন কিছুটা পেছনে চলে গেছে। হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম কমানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমরা চাই আমেরিকানরা যেন সাশ্রয়ী মূল্যে তেল ও গ্যাস কিনতে পারে। তবে এর পাশাপাশি ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়েও আমাদের কড়া নজর রয়েছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দর-কষাকষির হাতিয়ার পেয়ে গেছে তেহরান। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে অর্থনৈতিক অবরোধ ও তেল বিক্রি বন্ধ রাখার কৌশল বেছে নিয়েছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে এমন এক অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলা হবে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। আগামী সপ্তাহেই তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে প্রণালিটি খুলে দিতে ইরান বেশ কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দর ও অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এসব শর্ত জুনে স্বাক্ষরিত কথিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ায় ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়। এতে ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের একটি বিধানও ছিল।

এসব শর্ত জুনে সম্পাদিত তথাকথিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এতে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের একটি প্রস্তাবও ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস পরিবেশিত খবরে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিপুল অর্থ ব্যয়ে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের মজুত ব্যবহার করেছে এবং এখন এসব অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ফলে ইরানের ওপর আবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিকল্পও সীমিত হয়ে পড়ছে।

ভ্যান্স আরও বলেন, ‘কখনো কখনো আমরা জ্বালানি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিই। কারণ আমরা চাই আমেরিকানরা যেন তেল ও গ্যাসের দাম বহন করতে পারে। আবার কখনো আমরা অবশ্যই সামরিক বিষয়, পরমাণু কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিই।’