বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে আজ তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এদিন নভেম্বরের ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭৮ ডলার বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ০৯ ডলারে কেনাবেচা হয়।
এর আগের সেশনেও এর দাম প্রায় ১ শতাংশের মতো কমেছিল। পাশাপাশি, অক্টোবরের ডব্লিউটিআই ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৭ ডলার বা প্রায় দুই শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতা বাস্তবে কতটা স্থায়ী বা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শর্ত দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পাল্টাপাল্টি হুমকির রেশও কাটেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের রেশ কাটেনি পুরোপুরি। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথী বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এই হামলার কারণে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে।
জেপি মরগ্যানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাইপলাইনে কিছু বিঘ্ন ঘটলেও সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এখনো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।