ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ, যোগ দিল আলোচিত ‘ককরোচ পার্টি’

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ, যোগ দিল আলোচিত ‘ককরোচ পার্টি’

ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নতুন দিল্লি ও বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা।

আজকের এই বিক্ষোভের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও আলোচিত বিষয় ছিল তরুণদের নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ পার্টি’ বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এবং দেশটির নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিতর্কিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন শত শত মানুষ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে তারা স্লোগান দেন। যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আন্দোলন কঠোরহস্তে দমনের জন্য সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

গত মাসে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অনিয়মের চিত্র প্রকাশ পায়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ত্রুটিপূর্ণ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ বৈধ ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

যদিও নির্বাচন কমিশন সবসময়ই এই ধরনের সব অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন।

শুক্রবার নতুন দিল্লির প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তরে পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পুলিশের শক্তিশালী ব্যারিকেড ও কড়া পাহারা দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হলেও আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ থামানো যায়নি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভকারী নিধি শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষার স্বার্থেই আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যাঙ্গাত্মক ও ভিন্নধর্মী আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এর আগে গত জুলাই মাসে তাদের দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সাফল্যের পর শুক্রবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দলটির কর্মীরা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেন।

এদিকে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ না করে বর্তমান ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রেসক্রিপশনে কাজ করছে।

দিল্লির এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী মীনা গিরি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ১৫ বছর ধরে তিনি রাজধানীতে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। অথচ এবার হঠাৎ করেই তার নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। কেঁপে ওঠা কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার কীভাবে এভাবে কেড়ে নেওয়া সম্ভব?”

আরেক তরুণ বিক্ষোভকারী ১৮ বছর বয়সী ইমরান জানান, শুধু তিনি একা নন, বরং তার পুরো পরিবারের নামই এবারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা বিভিন্ন সরকারি অনুদান ও নাগরিক সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইমরান বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের বেশি কিছু নেই। আমাদের নাগরিক অধিকার এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মূল ভিত্তি হলো এই ভোট।’

বিক্ষোভ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বহু বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। তবে দমে না গিয়ে তাদের অনেকেই আবার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে আন্দোলনস্থলে ফিরে আসেন। আন্দোলন দমাতে ওই এলাকার মোবাইলফোনের ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এমনকি বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আসা কিছু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য আটক করে রাখে।

এতকিছুর পরও থেমে থাকেননি আন্দোলনকারীরা। আগামী মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলো।

আগের সেই সফল ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মী বিজেতা দাহিয়া বলেন, ‘কেউ শখে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে চায় না, কিন্তু সরকার যখন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়।’

দেশের সব সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোনো প্রান্তে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। এটি শুধু রাজনীতির বিষয় নয়, এটি সরাসরি আমাদের মৌলিক ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াই।’

হেডলাইন লাইন-ব্রেক (শব্দের মাঝে ↵ চাপুন)
প্রিফিক্স ও প্রতি লাইনের ফন্ট সাইজ ও কালার
লাইন স্পেসিং
--
হেডলাইনের পজিশন