সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সপ্তম দিনের মতো গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শ্রমিক ও পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এর ফলে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুই পাশে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জট তৈরি হয়, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে বেলা ১১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালান, তবে শ্রমিকরা নিজ দাবিতে অনড় থাকেন।
পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার পর শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় ১০ প্লাটুন বিজিবি এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রাখা হয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে শিল্পাঞ্চলটিতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।