১৮ জুলাই ২০২৪
জাগ্রত সকাল! চারিদিকে আন্দোলনের জোয়ার
ছাত্র আন্দোলন, কোটা প্রথা বিরোধী আন্দোলন
স্লোগানে, বাংলা ফেটে যাচ্ছে
তুমি কে? আমি কে?
রাজাকার, রাজাকার,
কে বলেছে? কে বলেছে?
স্বৈরাচার, স্বৈরাচার |
কামিনী, মধু মালতীর গন্ধ তখন
চাপা পড়ে যাচ্ছিলো |
গোলাবারুদ, টিয়ারশেলের জাজরা জ্বালাপোড়ায়
এ যেনো বিপ্লব! নব অভ্যুত্থান নেশায়
বাংলার জনগণ ফুলে ফেঁপে উঠছিলো
তারুণ্য কে স্বাগত জানাতে,
বিজয়ের মিছিলে! দূর্বার
শহিদ শাকিল পারভেজ
তারুণ্যর শহিদি নেতা
দ্বীপ্তীমান কন্ঠে গনজোয়ার
চোখে মুখে তেজ, স্বৈরাচারবাহিনীর
লড়াইয়ে অকুতোভয় বীর
উত্তরা বিএনএস ছাত্র আন্দোলন
মহাসমুদ্রে পরিণত হয়ছিলো
স্বৈরাচার বাহিনীর, নৃশংসতায় হাসির ফেরিওয়ালা
শহিদ শাকিল পারভেজ
ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে, হাসতে হাসতে
বিলিয়ে দিলো তাজাপ্রাণ,
তার অমরত্বের স্বাদ পূর্ণ হইলো! বেগবান প্রতিরোধ
শহিদ আবু সাইদ, মুগ্ধ, আহনাফ
ইতিহাসের পাতায় লেখালেন নাম
স্বৈরাচার পতনে নব বিজয়ের উল্লাস
মেতে উঠেছিল, মুক্তিকামী ছাত্রসমাজ
অবশেষে নতুন ভোর, রক্তে রাঙা পথ পেরিয়ে আসলো,
জাগিয়ে দিলো ৩৬ জুলাই
রক্তক্ষয়ী প্রাণের বিনিময়ে
গাঁথা রইলো! শহিদ শাকিল পারভেজ |
লেখক- শাকিল মাহমুদ
শিক্ষার্থী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
শহীদ শাকিল পারভেজের জীবনী
পরিচয়
শহীদ শাকিল পারভেজ ছিলেন একজন মেধাবী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি রাজধানীর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়ালেখায় অদম্য শাকিল পারভেজ নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন মানবতার সেবায়। মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতেন এই ‘হাসির ফেরিওয়ালা’। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শাকিল পারভেজ ছিলেন অগ্রসেনানী। উত্তরা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।
আরও পড়ুন- মানারাতের নতুন ট্রেজারার মনিরুল ইসলাম
শহীদ হওয়ার পটভূমি
জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন শাকিল পারভেজ। শুরুর দিকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাভারের বিরুলিয়া অঞ্চলে আন্দোলন করেন। পরবর্তীতে ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অনুষ্ঠিত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন শাকিল। যেটি হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। উত্তরার বিএনএস সেন্টারে আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন শাকিল৷ সেদিন পুলিশের গুলি প্রাণ কেড়ে নেয় তার। দেশের জন্য শহীদ হন শাকিল পারভেজ।
জানাজা ও দাফন
শহীদ শাকিল পারভেজের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম জানাজা শেষে নানা প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। পরেরদিন ১৯ জুলাই তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরের কাপিলাতলিতে পঞ্চম জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
বিচার কার্যক্রম
শহীদ শাকিলের বাবা বেলায়েত হোসেন তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ৭১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। যার বিচার প্রক্রিয়াধীন।
স্মৃতিচারণ
২০২৫ সালে রাজধানীর প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশে ‘তারুণ্যের উৎসব’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার। সেখানে শাকিলের মা বিবি আয়েশা তাঁর ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান।