আমাদের আর দেখা হবে না : শাকিল মাহমুদ
এই যে—
জানুয়ারি গেলো, ডিসেম্বর গেলো…
২২ সাল থেকে গুনে, চার বছরে
আমরা পরিণত ফুল হয়ে উঠলাম।
তোমার মনে আছে?
নবীন বরণে দাঁড়িয়ে আমরা
কত যুদ্ধের, নামার গল্প বলেছিলাম।
একটা লাল ক্যাম্পাস—
বসন্তের ভরা মৌসুমে,
নানান ফুলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে
ছবি তুলেছিলাম।
কত শত মেসেজ, কত বন্ধুত্বের গল্প
একজন আরেকজনের সাথে
জীবনের টুই-টম্বুর বন্ধন।
এসাইনমেন্টে, রাত জাগা,
প্রেজেন্টেশনে কাঁপা কণ্ঠ,
কথা, ঝগড়া
আর কখনও অনিচ্ছুক নীরবতা।
ট্যুর হয়েছিলো
ও তুমি তো ভুলেই গেছো
জিন্দা পার্ক!
বান্দরবানে তাসনীম স্যারের হাসি,
গনি স্যারের আনন্দ।
সুমাইয়া ম্যাম— দারুণ আবৃত্তি।
তাহমিনা ম্যামের “ওই!”
একটা শব্দেই যেনো
পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ হয়ে যেত।
মানারাতের ছোট্ট মাঠ,
পিকনিকের রোদ-ভেজা দুপুর…
আর কখনও হবে না কি বদ্দা-দুষ্টামি?
শাহপরান, রিফাত, উজ্জ্বলের
সেই ঐতিহাসিক মারামারি!
একটু হলেই ক্যারামরুম—
আহা… বোর্ডগুলো তোমাদের
কত মিস করবে!
সালমান সাদরিল—
কত্ত কাজের ছেলে।
মুচকি হাসা আমান,
চুল হেলানো সবুজ।
“Ismatara, class iz going on”—
মেসেজের শব্দেরা এখনও বাতাসে থাকবে হয়তো।
ক্লাস না করলে attendance নেই! মনে হয়তো ওই প্রফেসর
তানভীরের হাদিস,
এহতেশামের ‘রক্ত বেচা argument’,
চারাবাগের বখতিয়ার…
অস্থির ফিহাদ,
ফিটফাট তামিম,
বডিবিল্ডার ইমন।
মানিকজোর তানিয়া-চৈতী,
বান্ধবী রুবিনা
আমাদের Miss Advocate তুলি।
মাইশা, কেয়া—
দূর থেকে এসে ক্লাস করা,
ঘুমকাতুরে নেতা তাহমিদ,
আমাদের আফজাল।
সিয়াম, ৬১৮ তানভীর,
খেলার টানে ছুটে আসা বাবু।
উফ! নাইমের তেরামি
আর ইয়াসিব নুরের জ্বীনগিরি—
সবই তো ইতিহাস হবে।
আর তুমি—
আমার দেখা সেরা Narcissus।
বছর শেষ হলো…
মাস গুনলাম,
সপ্তাহ ফুরালো…
এখন গুনছি দিন।
ঘণ্টা বেজে গেছে।
এই স্বপ্ন শহর,
এই যাদুর শহরে
আর দেখা হবে না।
এমনটা কি হওয়ার কথা ছিল?
এমনই কি হয়?
দেখা না হলেও কি মানুষ ভুলে যায়?
যেমন আমরা ৬৮ দিনে ভুলে যাই
ওহ!তোমার তো মনে নেই
এখন মনে না হলেও
তখন হয়তো মনে পড়বে।
ধ্যাত!
ভুলাভুলি বন্ধ।
আমরা যেনো বেঁচে থাকি—
বেঁচে থাকুক মানারাত,
বেঁচে থাকুক Law Department,
বেঁচে থাকি— তুমি, আমি, আমরা সবাই।