কিশোরী বউ : শাকিল মাহমুদ
অনুপমা
ওহে! আমার প্রেম বিলাসিনী, ছোট্ট কিশোরী বৌ
তর মনে আছে, সেইদিন তমুল বৃষ্টি
মরসুমের প্রথম কালবৈশাখী
একটা ছাতা, দুটো মানুষ বিজলীর ঝলকানি
আর বাড়ি ফেরার তাড়া
তার আগেও ছিলো কত আক্ষেপ দেখা হওয়ার.. মাঝে, বৃষ্টি না হওয়ার জন্য
তবে সেদিন কোনো আক্ষেপ ছিলোনা, শুধু কিছু মুহুর্ত ছিলো
স্মৃতির চিলেকোঠায়, যা আজও সাজানো আছে
ভালোবাসা যে শুধুই শারীরিক বন্ধন নয়
সবটাই যে অনুভূতির বন্ধন, সেসব আর কজনই বা বুজে
মনের গভীরতা ছুয়ে ফেলাতে যে পরম প্রাপ্তি
সেই অশান্ত অঝোর ধারায়, ভেসে গিয়েছিলো মনের আকাশ
ফেরার পথে আঙ্গুল ছুঁয়ে মনটা বলে উঠেছিল ভালোবাসি
ওহে! ছোট্ট কিশোরীর সুভদ্রা রাগিনী, তুই যে শত অভিমানে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলি
নীল আকাশের ঐ পাড়ে।
আইজ তুই আমার থেইক্কা অনেক দূরে
হাতের নাগালের বাইরে পারিনা স্পর্শ করতে
দুপুরের কাঠফাঁটা রইদের যন্ত্রণা গুলো পুইড়া, পুইড়া খায় আমারে।
ঐ!অনুপমা থাকনা, আর কিছুক্ষন, আমি যে ঘুমের অগোচরে তরে খুঁজি, ডানা মেইল্লা তর কাছে যায়তে চাই
ওহে!আমার অভিমানী সুকেশিনী,
নদীর পাড়ে ঐ শিমুতলায় এখন মেলা বহে
আমি লাল ফিতা,সিন্দুর, ছিকায় এনে রাখি।
লাল সিন্দুর, সাদা লাল পাইর শাড়িতে তুই যে এক অপরূপ মোহিনী হয়ে চাঁদ নিয়ে আসতি, আমার ভাঙা চালায়.
আমি ঠিক আইজ ও মরি, আরও ত্রিশ বছর আগেই মরছি, তোর আঁচলের দোপাট্টায়!!
আরও পড়ুন- শহীদ শাকিল পারভেজ
কবিতার সারমর্ম:
এই কবিতাটিতে কবি এক পুরনো প্রেমের স্মৃতিমাখা আবেগময় গল্প তুলে ধরেছেন। কবির প্রেয়সী অনুপমার সাথে অতীতে কাটানো একটি বিশেষ মুহূর্ত—আজও কবির মনে গেঁথে আছে। বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় এক ছাতার নিচে একসাথে বাড়ি ফেরা—সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরেন কবিকে। কবির সেই সম্পর্ক ছিল গভীর আত্মিক ও মানসিক বন্ধন।
কবিতায় দেখা যায়, কবির প্রেয়সী অনুপমা এখন আর তার জীবনে নেই।। কিন্তু কবি এখনো প্রেয়সীর স্পর্শ, ভালোবাসা অনুভব করেন। এমনকি তার অভিমান আজও তার কাছে অধরা। প্রেয়সীর পুরোনো স্মৃতি নিয়ে বর্তমানে ভিষণ যন্ত্রণায় সময় পার করছেন। কবি নিজের প্রেয়সীকে এখনো ঘুমের মধ্যে খুঁজে ফেরেন, কল্পনায় তার কাছে উড়ে যেতে চান।
নদীর পাড়ে বসা মেলা থেকে কবি এখনও তার প্রেয়সীর জন্য লাল ফিতা, সিঁদুর এনে রাখেন। এই গভীর ভালোবাসা আর না-পাওয়ার বেদনায় কবি যেন অনেক আগেই অন্তর থেকে মৃত হয়ে গেছেন।