মেহমেদ ফাতিহ সুলতান সিজন ৩ প্রচার হবে যেদিন থেকে
গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুরস্কের ইতিহাস ভিত্তিক ড্রামা সিরিজগুলো। যার শুরুটা হয়েছিল ‘দিরিলিস আর্তুগুল’ দিয়ে। এরপর কুরুলুস ওসমানের পরে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের জীবনী নিয়ে তৈরি করা সিরিজ ‘ফাতিহ মেহমেদ সুলতান’। ইতোমধ্যেই সিরিজটির দুইটি সিজন প্রচার হয়েছে।
চলতি বছরের ১০ জুন প্রচার হয়েছিল দ্বিতীয় সিজনের শেষ পর্ব। এরপর নতুন সিজনের প্রস্তুতি নিতে প্রায় মাস তিনেক বন্ধ ছিল শুটিং। সেসময়ই পরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয় সিরিজটির তৃতীয় সিজন আসবে। এরপর দর্শকরা বেশ অপেক্ষায় ছিলেন নতুন সিজনের। সেই অপেক্ষার পালা এবার শেষ হতে চলেছে। ইতোমধ্যে নতুন সিজনের ট্রেইলার প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তৃতীয় সিজনের অর্থাৎ ৫০ নম্বর ভলিউমের প্রথম ট্রেইলার প্রকাশ করা হয় সম্প্রচারকারী চ্যানেল টিআরটি-১ এ। যেটি ইতোমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মাঝে। নির্মাতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, দর্শকদের অপেক্ষা শেষে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে প্রচার হবে সিজন ৩ এর প্রথম ভলিউম। তার্কি ভাষায় সিরিজটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
নতুন চরিত্রের আগমন
মেহমেদ ফাতিহ সুলতান সিরিজের সিজন ৩ এ অভিনেত্রী পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় সিজনে বাহার হাতুন চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীকে দেখা যাবে না সিজন ৩ এ। তার পরিবর্তে নেওয়া বাহার চরিত্রে অভিনয় করবেন আরেক অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন- ডাকসু নির্বাচনে মারা যাওয়া সাংবাদিকের পরিবারের পাশে ছাত্রশিবির
এছাড়াও শাহজাদা বায়েজিদকে আরেকটু বড় দেখানো হয়েছে। যে কারণে এই চরিত্রের অভিনেতারও পরিবর্তন এসেছে। নতুন অভিনেতা নেওয়া হয়েছে শাহজাদা বায়েজিদ চরিত্রের জন্য। একইভাবে শাহজাদা মুস্তাফার চরিত্রেও পরিবর্তন আসছে। অন্যদিকে, সিজন ৩ এ দেখানো ভ্লাগের ভাইকে। সেখানেও নতুন আরেকজনের অভিনেতার অন্তর্ভুক্তি হবে খুব শীঘ্রই।
নতুন ট্রেইলারের ঘটনা
ট্রেইলারের প্রথমেই একটি নতুন যুদ্ধ দিয়ে শুরু করা হয়। যেখানে সিরিজের প্রধান চরিত্র সুলতান মেহমেদ বলছেন, “রোমের শেষ দুর্গ পতন না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর সিংহরা থামবে না।” এরপর দ্বিতীয় রোম হিসেবে পরিচিত ‘পন্টোস’ বিজয়ের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর দেখা যায় তৎকালীন সময়ের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ভ্যাটিকান সিটির রাজা এবং তার রাজ্যসভার লোকজন বলছেন, “এরপর ভ্যাটিকান সিটির পালা।”
এরপর সুলতান মেহমেদের শশুড় ইব্রাহীম বে ‘পন্টোস বিজয়ের ঘোষণা’ নিয়ে কথা বলেন। পরের দৃশ্যে দেখা যায়, উসমানীয় সেনাবাহিনী ‘জেনিসারিদের’ পন্টোস অভিযানের জন্য প্রস্তুত করছেন জেনিসারিদের প্রধান।
এরপর মাহমুদ পাশা সুলতান মেহমেদকে বলছেন, ইব্রাহীম বে পন্টোসের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। আমরা কি তাকে থামাবো না? তখন সুলতান মেহমেদ তাকে একটি চিঠি দিয়ে বলছেন, যা প্রয়োজন হয় করুন।
ট্রেইলারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য হলো- সুলতান মেহমেদের ছেলে বায়েজিদকে ইসহাক পাশা বলছেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আপনার এবং আপনার ভালোবাসার চেয়েও মূল্যবান। ট্রেইলারেে একদম শেষ দৃশ্যে বলা হয়, শাহজাদা বায়েজিদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় সিজনের সারসংক্ষেপ
দ্বিতীয় সিজনে মূলত সুলতান মেহমেদের কনস্টান্টিনোপল বিজয় দেখানো হয়। তৎকালীন রোম সম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও শহরটি জয় করেন সুলতান মেহমেদ। এরপর থেকে তার নাম হয়- সুলতান মেহমেদ ফাতিহ। কনস্টান্টিনোপল জয় করার জন্য অকল্পনীয় একটি কাজ করেন সুলতান মেহমেদ। পাহাড়ের উপর দিয়ে জাহাজ চালিয়ে নিয়ে তিনি গোল্ডেন হর্ন নামক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ করেন। যেটি ছিল সবার জন্যই অবিশ্বাস্য। পরবর্তী এটিই কনস্টান্টিনোপল বিজয় করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও এই সিজনে বেশকিছু ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে সেনাশিবিরে বিদ্রোহ, বিদ্রোহী সেনাদের শাস্তি দেওয়া, নৌবাহিনীর প্রধান সুলেমান বে’র মৃত্যু, জেনিসারি প্রধান কুর্তচু দোগানকে বিদ্রোহের জন্য শাস্তি দেওয়া এবং আবার তাকে জেনিসারি বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া, সেনাশিবিরে মহামারী, শাহী কামান তৈরি করা, হাসান আল্পের শাহাদাত, প্রধান উজির হালিল পাশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, সম্রাট কনস্টানটিনোর মৃত্যু, মালকোচোগ্লু সালতুক বে ও ফাতমা হাতুনের মৃত্যু, লুকাস নোতারাসের মৃত্যু উল্লেখ্য যোগ্য ঘটনা।
প্রধান চরিত্রগুলো-
সুলতান: সুলতান মেহমেদ ফাতিহ, সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ, শাহজাদা বায়েজিদ, শাহজাদা মুস্তাফা, শাহজাদা ওরহান (সুলতান মেহমেদের চাচা), শাহজাদা আহমেদ, সুলতানের প্রথম স্ত্রী বাহার হাতুন, দ্বিতীয় স্ত্রী গুলশাহ হাতুন, সুলতানের মা মারা হাতুন, প্রধান উজির হালিল পাশা, উজির ইসহাক পাশা, উজির জাগানোস মেহমেদ পাশা, উজির শাহাবুদ্দিন পাশা, উজির মাহমুদ পাশা।
এভরেনোসোগ্লু আলি বে, মালকোচোগ্লু বালি বে, জেনিসারি প্রধান কুর্তচু দোগান, প্রধান কাজী হিজির চেলেবি, নৌবাহিনীর প্রধান বাহাদির বে, শায়েখ আকশামসউদ্দিন, মোল্লা হুসরেব, উরবান উস্তা (কামান প্রকৌশলী), সারুজা উস্তা (কামান প্রকৌশলী), সালতুক বে (মালকোচোগ্লু সৈন্য), উলুবাতলি হাসান আল্প (মালকোচোগ্লু সৈন্য ও কনস্টান্টিনোপলে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী)।
ফাতমা হাতুন (কনস্টান্টিনোপলে থাকা সুলতানের গুপ্তচর), মুস্তাফা আগা বা কারা মুস্তফা (জেনিসারি প্রধান ও সুলতানের গুপ্তচর), সাতিলমিশ আগা (খনন প্রকৌশলী), বালতোগ্লু সুলেমান পাশা (নৌবাহিনীর প্রধান), মোল্লা গুরানি, আতিক সিনান, কালেন্দার (বিদ্রোহী জেনেসারি আগা), আতমাজা (হালিল পাশার সহকারী), রেহান আগা (প্রাসাদের প্রধান কর্মকর্তা)।
রোম সাম্রাজ্যের সম্রাট কনস্টানটিনো, আন্না (সম্রাটের স্ত্রী), দিমিত্রিউস (সম্রাটের ভাই), লুকাস নোতারাস (মেগা ডিউক), উস্তাদ প্লাটুন (সম্রাটের শিক্ষক), কমান্ডার জিয়াওয়ান্নি জিস্টিনিয়ানি, ভ্লাগ, আগামেমনন, জেনাডিউস (গির্জার যাজক), মিনোত্তো (হালিসের শাসক), জর্জ (কমান্ডার), ব্রাঙ্কোবিচ (হাঙ্গেরির সম্রাট)।