কুরুলুস উসমান সিজন ৭ কবে থেকে প্রচার হবে?
সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজগুলো। যার শুরুটা হয়েছিল দিরিলিস আর্তুগ্রুল দিয়ে। এখনো পর্যন্ত সেটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে আছে। পরের স্থানে থাকা সিরিজটি কুরুলুস উসমান। সিরিজটির ছয়টি সিজন প্রচার হয়েছে। ইতোমধ্যে সপ্তম সিজনের শুটিংও শুরু হয়ে গেছে। তবে নতুন সিজনে সিরিজটির নামে একটু পরিবর্তন এসেছে। কুরুলুস উসমান থেকে করা হয়েছে কুরুলুস উরহান। যেখানে দেখানো হবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রথম সুলতান উরহানের রাজত্ব।
সিরিজটির সপ্তম সিজন দেখতে অনেক ভক্তই অধীর অপেক্ষায় আছেন। তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবার। জানা গেছে, আগামী ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে সিজন ৭-এর প্রথম পর্ব প্রচার হবে। যেটা বাংলায় সাবটাইটেল পাওয়া যাবে ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এর আগেই প্রোমো ও ট্রেইলার প্রচার করা হবে।
প্রযোজকের ঘোষণা
নতুন সিজন নিয়ে প্রযোজক মেহমেদ বোজদাগ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আমাদের পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আজ থেকে ‘কুরুলুস উরহান’ ধারাবাহিকের শুটিং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছি। প্রিয় শিল্পী ও কর্মীদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শক্তি ও সফলতা প্রার্থনা করছি। নতুন কাহিনি, ভিন্ন জগত এবং শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী দলের সমন্বয়ে “কুরুলুস উরহান” শীঘ্রই সম্প্রচারিত হবে।”
বিভিন্ন চরিত্রে পরিবর্তন ও নতুন চরিত্রের আগমন
নামের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বিভিন্ন চরিত্রেও। এখন পর্যন্ত উসমান বে চরিত্রে অভিনয় করা বুরাক ওজচিভিত থাকছেন না নতুন সিজনে। তার পরিবর্তে উসমান বে চরিত্রে দেখা যাবে নতুন জিহান উনাল নামের অভিনেতাকে। একইভাবে পরিবর্তন এসেছে বালা হাতুন চরিত্রেও।
নতুন সিজনের মূল চরিত্র উরহান বে চরিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগের সিজনে এই চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা এমরে বে থাকছেন না নতুন সিজনে। তার পরিবর্তে উরহান চরিত্রে অভিনয় করবেন মেরত ইয়াজিচিওগ্লু নামের অভিনেতা। সেই সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে উরহান বেয়ের হাতুন হলোফেরা চরিত্রেও। উসমান বেয়ের দুই মেয়ে ফাতিমা হাতুন ও হালিমা হাতুন চরিত্রেও পরিবর্তন এসেছে।
আরও পড়ুন- সুলতান মেহমেদ ফাতিহ সিরিজে নতুন চরিত্রের আগমন
সিজন ৭-এ দেখানো হবে উরহান বেয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী নিলুফার হাতুনকে। এই চরিত্রে অভিনয় করছেন মহসিনে মেরাবেত নামের অভিনেত্রী। এছাড়াও নতুন আরও বেশ কিছু চরিত্রের আগমন ঘটবে সিজন ৭-এ।
তবে বিভিন্ন চরিত্রে পরিবর্তন এলেও উসমান বেয়ের বড় ছেলে আলাউদ্দিন বে, তার স্ত্রী গোনজা হাতুন, উসমান বেয়ের প্রধান সহকারী বুরান আল্প, চেরকুতাই আল্প, আয়কুর্ত আল্পসহ বেশ কয়েকটি চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে, সিজন ৬-এ তুর্গুত বে চরিত্রে ফেরা অভিনেতা সেঞ্জিজ কোশকুনকেও সম্ভবত কুরুলুস উরহান সিরিজে দেখা যাবে না।
সিজন ৭-এর শুটিং শুরু
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে কুরুলুস উরহানের সিরিজের প্রথম ভলিউমের শুটিং। কুরুলুস উরহানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রী যোগ দিয়েছেন শুটিংয়ে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় স্ক্রিপ্ট রিহার্সাল অনুষ্ঠান।
নতুন সিজনের পটভূমি
কুরুলুস উসমানের সিজন ৬ পর্যন্ত উসমান বে ছিলেন মূল চরিত্র। তার মাধ্যমে কিভাবে উসমানী সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন সিজনেও সেটিকেই প্রাধান্য দিতে চেয়েছিলেন প্রযোজক বোজদাগ। কিন্তু উসমান বে চরিত্রে অভিনয় করা বুরাক ওজচিভিত বিশাল পারিশ্রমিক চাওয়ায়, গল্পে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কলাকুশলীরা।
সিজন ৬ যেখানে শেষ হয়েছিল, নতুন সিজনে সেটি থেকে অনেকটা সময় পরে দেখানো হবে। যেখানে উসমান বেকে কিছুটা বৃদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। আর উরহান বেয়ের উত্থান ও নতুন যুগের সূচনা তুলে ধরা হবে। হয়তো এই সিজনেই উসমানীয় সাম্রাজ্যকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হিসেবে দেখানো হবে।
সিরিজের প্রধান চরিত্রগুলো
উসমান বে (যিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা), তার দুই স্ত্রী বালা হাতুন ও মালহুন হাতুন। দুই ছেলে আলাউদ্দিন বে (যিনি পরবর্তীতে প্রধান উজির হন) ও উরহান বে (যিনি উসমানী সাম্রাজ্যের প্রথম সুলতান)। উসমান বেয়ের দুই মেয়ে ফাতিমা হাতুন ও হালিমা হাতুন। আলাউদ্দিন বেয়ের স্ত্রী গোনজা হাতুন। উরহান বেয়ের দুই স্ত্রী হলোফেরা হাতুন ও নিলুফার হাতুন। উসমান বেয়ের সহকারী বুরান আল্প, আয়কুর্ত আল্প, চেরকুতাই আল্প, তুরাহান আল্প, বায়সুঙ্গুর আল্প। তুর্গুত আল্প (যিনি উসমান বেয়ের বাবা আর্তুগ্রুল গাজীর সহকারী ছিলেন)।
এছাড়াও অন্যান্য বিশেষ চরিত্রগুলো হলো– ইউনুস এমরে, ইয়াকুব বে, কালেমশাহওগ্লু কারেসি বে, কমান্ডার লুকাস, ম্যাগনাস, জেনারেল ম্যাগনাস, মেহমেদ বে, সাদেত হাতুন, গাজী আল্প (চেরকুতাই আল্পের ছেলে), উলগেন হাতুন (চেরকুতাই আল্পের স্ত্রী ও বালা হাতুনের বিশেষ সহকারী), হাজাল হাতুন, বেগম হাতুন, ইলবে, সারুজা, ইউসুফ, বায়হান বে, গেঞ্জার বে, সারগুন, কিসমেত হাতুন।
সিজন ৬ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ
উসমান বে যখন কায়ী বসতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন কায়ীদের দুর্গ ছিল কেবল দুটি হানলি বাজার। যে দুটি আর্তুগ্রুল গাজীর জীবদ্দশায় জয় করেন। সেখান থেকে শুরু করে সিজন ৬ পর্যন্ত অনেকগুলো দুর্গ জয় করেন উসমান বে। তার বাবা আর্তুগ্রুল গাজী যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন, সেটি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যান।
তবে সেটি মোটেও সহজ ছিল না। একদিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, অন্যদিকে মঙ্গোলরা– এই দুই শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিপক্ষে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়েছে তাকে। তার উপর সেলজুক সাম্রাজ্য ও তুর্কি গোত্রগুলোর ক্ষমতার লোভ, অহমিকা কিংবা আকাঙ্ক্ষা তো ছিলই। নিজের বিশ্বস্ত সহযোগীদের নিয়ে সব বাধা পেরিয়ে যান উসমান বে। এক্ষেত্রে তাকে বিভিন্ন সময় মনোবল যুগিয়েছেন নিজের স্ত্রীদ্বয় ও তৎকালীন আলেম-উলামারা। তাদের সহযোগিতায় দুয়ার উন্মোচন করেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের।