বিজয়ের মাসে হোক নতুন প্রতিজ্ঞা
চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আজ থেকে ৫৪ বছর আগে এই মাসেই বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, আর তার ফলেই জন্ম হয় এক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—লাল–সবুজের পতাকা তুলে ধরা নতুন দেশ ‘বাংলাদেশ’।
এই ভূখণ্ডের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো আইন তারা মেনে নিতে চায়নি। বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাই বারবার তারা লড়াই করেছে—আবদ্ধতার শৃঙ্খল ছিন্ন করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাসই গড়ে উঠেছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আর শেষ পর্যন্ত ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে।
লক্ষ শহীদের রক্ত আর অসংখ্য আহত মানুষের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশের স্বপ্নকে সত্য করতে যারা সামনে থেকে, পেছন থেকে অবদান রেখেছিলেন—যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে তাদেরও জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কি শুধু একটি ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য? স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা কি এর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পেরেছি? নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ-বাহ্যিক আগ্রাসন, দুঃশাসন এবং অদক্ষ নেতৃত্ব আমাদের লক্ষ্য থেকে বহু দূরে সরিয়ে নিয়েছে।
তবুও আশার আলো আছে। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর নতুন করে স্বপ্ন দেখছে দেশের মানুষ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একদল নতুন প্রজন্ম উঠে এসেছে। তাদের চোখে নতুন স্বপ্ন—নতুনভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন।
এখনই সময় ভুলে যাওয়া দন্দ্ব–বিভেদ মুছে ফেলার। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। আগ্রাসন, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃপ্ত স্বরে দাঁড়িয়ে যাওয়ার।
বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক—যে আদর্শ নিয়ে শহীদরা যুদ্ধ করেছিলেন, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তারা বুকে নিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। বিজয়ের মাসে এই প্রতিজ্ঞাই হোক আমাদের পথচলার নতুন আলো।
লেখক- আশিক মুস্তাফা
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা বিভাগ
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি