ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করেছে মার্কিন বাহিনী
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশেষ অভিযানের পর তাঁদের বন্দি করে ভেনেজুয়েলার বাইরে কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “ভেনেজুয়েলা ও তাদের নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে আজ ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ট্রাম্প।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ভোররাত থেকেই কারাকাস ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলো অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। মূলত কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘ফুয়ের্তে তিউনা’ ও বিমানঘাঁটি ‘লা কার্লোটা’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই গোটা শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে তলিয়ে যায়।
গত বছর থেকেই মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’ ও পাচারের অভিযোগে কঠোর অবস্থানে ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি গত মাসেও মাদুরোকে দেশ ছাড়ার চরমপত্র বা আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে সিআইএর ড্রোন হামলার পর আজকের এই সরাসরি সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত রূপ দিল।
আটক হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মাদুরো সরকার এই হামলাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। এদিকে এই ঘটনার পর প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই ঘটনায় পুরো বিশ্বে নতুন করে অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।