মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা : দায় কার?
মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে যুবসমাজকে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মাদক ধংস করছে তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা। একদিকে যেমন পরিবার ধংস হচ্ছে, অন্যদিকে হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়। সীমান্ত পথ দিয়ে বিভিন্ন রকম মাদকদ্রব্য আমদানি হচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদকের অপব্যবহার। মাদকের কারণে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে আমাদের সমাজের সামাজিক সংগঠন, পরিবার সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদকাসক্ত হয়ে সন্তানেরা পিতা মাতার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, তাদের জিম্মি করে জোরপূর্বক মাদকের জন্য অর্থ আদায় করছে। মাদকের কারণে কিশোর গ্যাং তৈরী হয়েছে, যেখানে কিশোরেরা বিভিন্ন অবৈধ কর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এমন কি হত্যাকান্ডের মত ঘটনাও ঘটছে।
একটি পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড় করতে পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। এজন্য মাদকের অবাধ বিস্তার আটকানোর জন্য সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করি। দিন দিন মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে উঠছে। মাদক প্রতিরোধ করতে না পারলে তা এক সময় দেশের এবং যুবসমাজের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াবে। তরুণ ও কিশোর প্রজন্ম, শিশু এমনকি নারীদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা দেখা দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিনিয়তই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে, মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান করার পরেও মাদকদ্রব্য আমদানি এবং ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হচ্ছ না, তবে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সমাজ থেকে মাদক নির্মুল করা সম্ভব।
বাংলাদেশে প্রায় ৯ মিলিয়নের বেশি মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ৮০ শতাংশ মাদকাসক্ত কিশোর ও তরুণ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মাদক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশে মাদকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এশিয়ার গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল (মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড), গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান), গোল্ডেন ওয়েজ (ভারতের হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, নেপাল ও ভুটানের কিছু অংশ) নামে পরিচিত মাদক চোরাচালানের তিনটি প্রধান অঞ্চলের কেন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশে।
দেশে সবচেয়ে বেশি সেবন হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। নতুন আইন করেও কমানো যায়নি মাদকের ব্যাপকতা। প্রতিবেশী দেশগুলোতে মাদকের প্রসার না কমলে, বাংলাদেশে এর ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব।
দুই কোটির বেশি মানুষের বসবাসকৃত মহানগরী ঢাকায়, মাদক সরবরাহ হয় বস্তিগুলো থেকে। বস্তি হলো রাজধানীর মাদকের হাব। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ঢোকার পর মাদক মজুদ হয় বস্তিতে। মজুদকৃত মাদক বিভিন্ন হাত ঘুরে পৌঁছে যায় রাজধানীর সব ধরনের মাদকসেবীদের কাছে। অল্প পরিশ্রমে বেশি টাকার লোভে বস্তিগুলোর নারী-শিশু মাদক বহনে ও বিক্রিতে জড়িত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখনই মাদক প্রতিরোধ না করতে পারলে দেশের ভবিষ্যৎ যুব সমাজ বিপথগামী হয়ে পরবে।
কথায় আছে, যে নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কৌতুহল ও ঝোক বেশী হয়ে থাকে। সেই নিষিদ্ধ বস্তুটি যদি সর্বনাশার মাদক হয়, তাহলে আর কথায় নেই। মাদক নিষিদ্ধ করলেও তরুণদের উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। মাদক নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ করা যায় না বরং ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তা প্রচার করা দরকার। আমরা যদি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হই তবে মাদকের গ্রাস থেকে কেমনে মুক্ত হবে দেশ?