বরফ গলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের: শুরু হচ্ছে পারমাণবিক আলোচনা
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে তারা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া বেশ কিছু কূটনৈতিক প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই আলোচনার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি, তবে ইরানের সরকারি ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।
এদিকে, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতায় বর্তমানে পরোক্ষভাবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। সোমবার তিনি জানান, তাঁরা প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করছেন এবং দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে ‘গুরুত্ব সহকারে’ কথা বলছে। তবে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প ইরানকে চাপে রাখার কৌশল বজায় রেখেছেন। তাঁর দাবি—ইরানকে আলোচনায় ফিরতে হলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কমানো এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে।
জানুয়ারিতে ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দেশটির সরকার বেশ চাপের মুখে আছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এখন তেহরানের জন্য খুবই জরুরি। তবে এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিশেষ বাহিনী ‘আইআরজিসি’-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইরান ইইউ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।
তবে আলোচনার সম্ভাবনা উঁকি দিলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো ধরনের আক্রমণ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।