ভাড়া বিশৃঙ্খলা ও রুট সংকটে জাবির অভ্যন্তরীণ পরিবহন, নিত্য ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সংকট নিরসনে পায়ে চালিত রিকশা, অটোরিকশা ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রনিক কার্ট চালু করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং যানবাহনের স্বল্পতা, অনিয়মিত রুট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং বহিরাগতদের প্রাধান্যের কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করে দেয়। এর বিকল্প হিসেবে চালু হয় পায়ে চালিত রিকশা। পরবর্তীতে গত বছরের ১৩ এপ্রিল পরিবহন সংকট লাঘবে ইলেকট্রনিক কার্ট সার্ভিস চালু করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একই বছরের ১৫ নভেম্বর জাকসুর উদ্যোগে পুনরায় অটোরিকশা চালু করা হলেও ভোগান্তির চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে গেলে কার্ট ও অটোরিকশা মূলত তাদের পরিবহনেই ব্যস্ত থাকে। ফলে প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীরা যানবাহন সংকটে পড়েন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালবেলায় ক্লাস শুরুর আগে আবাসিক হলগুলোর সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নির্দিষ্ট রুটে সীমাবদ্ধ কার্ট সার্ভিস থাকায় বিপরীতমুখী চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি, গেরুয়া, ইসলামনগর, প্রান্তিক, আমবাগান ও বিশমাইল গেট এলাকায় অধিকাংশ অটোরিকশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও শিক্ষার্থীদের প্রধান রুট—হল থেকে একাডেমিক ভবন এবং বিপরীত পথে যানবাহনের ঘাটতি প্রকট। বিশেষ করে ছাত্রী হল এলাকায় এ সংকট আরও তীব্র।
একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রান্তিক থেকে হলে ফেরার সময় খালি অটোরিকশা থাকা সত্ত্বেও চালকেরা যেতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক ক্ষেত্রে তারা বহিরাগত যাত্রী নেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য গেটের দিকে চলে যান। একইভাবে ছাত্রী হলমুখী রুটে কার্ট সার্ভিসের উপস্থিতিও খুবই সীমিত।
পায়ে চালিত রিকশার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ। নির্ধারিত ভাড়া ২০–৩০ টাকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করা হয়। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতে একজন শিক্ষার্থীর ৮০–১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের জিএস সুমাইয়া খানম নিশি বলেন, “অটোরিকশা, রিকশা ও কার্ট থাকার পরও আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। মেয়েদের হলের দিকে কার্ট খুব কম আসে। অটোরিকশা খালি থাকলেও দাঁড়ায় না, বরং ইসলামনগরের দিকে চলে যায়। ক্লাসের সময় রিকশাও পাওয়া যায় না, আর ভাড়ার কোনো নির্দিষ্টতা মানা হয় না।”
জাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, “আমার কাছেও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ এসেছে। আমরা কাউন্সেলিং করতে পারি, তবে বিষয়টি কার্যকরভাবে সমাধানের জন্য প্রশাসনিক মনিটরিং জরুরি।”
শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, নির্ধারিত ভাড়া বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।