নির্বাচন পরবর্তী বিজেপির সন্ত্রাসী কর্মকান্ড: ইবি ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা ও প্রতিবাদ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংসদ।
শনিবার (৯ মে) ইবি ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক তানিম তানভীর সাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে উক্ত নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইবি সংসদের সভাপতি নূর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আহমাদ গালিব বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজেপির নেতৃত্বে বিরোধী দল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ভিন্নমতের মানুষের অফিস, বাড়ি-ঘর, দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম নিউমার্কেট এলাকায় গরুর মাংস বিক্রেতাদের দোকানপাট মব সৃষ্টি করে লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যা সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সহিংসতার দলিল হিসেবে থাকবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে সর্বহারা শ্রেণীর মুক্তির দিশারি কমরেড লেনিনের ভাস্কর ভাঙচুর ও অশালীন অঙ্গাভঙ্গি প্রদর্শন এবং পশ্চিমবঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জ্যোতি বসুর ভাস্কর্ষে কালিমা লেপন করা হয়েছে।
তারা বলেন, বিজেপির এই সকল কাজ পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশের সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। বিজেপির এহেন কর্মকান্ড তার হিন্দুত্ববাদী- সাম্প্রদায়িক অবস্থানকেই স্পষ্ট করে যা গণতন্ত্র ও প্রগতি বিরোধী।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের নানাবিধ অহেতুক হস্তক্ষেপ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) এর নাম করে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও দলিত সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের দিনেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক অবস্থান, কেন্দ্রীয় সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন, জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে সকল বিরোধী দলের পক্ষ থেকে। যাতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সুভাষ বোস, ভগত সিং, রবীন্দ্রনাথ, রাজা রামমোহন রায়সহ অসংখ্য লড়াকু গণতান্ত্রিক -প্রগতিশীল মানুষের লড়াইের চিহ্ন এখনও বিরাজমান সেই পশ্চিমবঙ্গের এই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্ফালন অত্যন্ত পরিতাপের ও দুঃখজনক।
অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। একইসাথে নেতৃবৃন্দ পশ্চিমবঙ্গের বাম-প্রগতিশীল শক্তির আগামীর লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে।
