আজ বিশ্ব মা দিবস : কবে, কেন, কিভাবে এলো?
পৃথিবীর প্রতিটি সন্তানের জীবনেই বাবা-মায়ের ভালোবাসা অমূল্য। তবে মায়ের ভালোবাসা যেন অনন্য। জন্মের আগে নয় মাস আমরা মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠি, জন্মের পর তাঁর স্নেহ, মায়া আর ত্যাগে বড় হয়ে উঠি। মায়ের সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর অসীম মমতাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করতেই বিশ্ব ক্যালেন্ডারে যুক্ত হয়েছে একটি বিশেষ দিন—‘মা দিবস’। কিন্তু মা দিবস কবে, কেন এবং কীভাবে শুরু হলো? চলুন জেনে নেয়া যাক।
মা দিবসের প্রচলন কবে থেকে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মা দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস উদযাপন করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালে এই দিনটি পালিত হবে ১০ মে।
মা দিবস কেন পালিত হয়?
মা দিবসের পেছনে রয়েছে ভালোবাসা, ত্যাগ ও সম্মানের এক আবেগঘন ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী অ্যান রিভস জার্ভিস গৃহযুদ্ধের সময় আহত সৈনিকদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মায়েদের জন্য বিশেষ একটি দিনের স্বপ্ন দেখতেন। যাকে তিনি “মাদাস ওয়ার্ক ডে” (Mothers’ Work Days) বলতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করা এবং আহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য মায়েরা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন।
জার্ভিসের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে আনা জার্ভিস সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। মায়েদের অবদান, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই তিনি মা দিবস প্রচলনের আন্দোলন শুরু করেন।
মা দিবস কীভাবে শুরু হয়?
আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে আনা জার্ভিস তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মরণে প্রথমবারের মতো মা দিবস পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
তবে আনা জার্ভিস চেয়েছিলেন দিনটি হোক মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ভালোবাসা জানানোর একটি ব্যক্তিগত আয়োজন। পরবর্তীতে দিনটি অতিরিক্ত বাণিজ্যিক হয়ে ওঠায় তিনি এর বিরোধিতাও করেছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মা দিবস নানা আয়োজনে পালিত হয়। কেউ মাকে উপহার দেন, কেউ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, আবার কেউ শুধুই মায়ের পাশে থেকে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কারণ পৃথিবীর সব সম্পর্কের ভিড়ে ‘মা’ শব্দটাই যেন সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা, ভালোবাসা আর শান্তির নাম।
