বাঁধনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক শিশির
‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’ এর ২০২৬-২৭ কার্যবছরের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিম সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিশির মল্লিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল এই অনুষ্ঠান।
বাঁধনের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম কামরুজ্জামান কাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এবং রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী।
দিনব্যাপী এই আয়োজনটি মূলত তিনটি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর ও ৫৪ সদস্যের নতুন এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ পর্বে কৃতী কর্মীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁধনের সেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধন সমাজের কল্যাণ ও মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমি ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার এক বছর পর আমার মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। তখন প্রতি মাসে কয়েক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হতো। সেই সংকটকালীন সময়ে বাঁধন আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছিল, তা আমি চিরদিন মনে রাখব। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাঁধনের যেকোনো প্রয়োজনে আমি সবসময় পাশে থাকব।’
ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদাধিকারীরা হলেন সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও মো. ফারওহা মুনজির রাফিদ, সহসাধারণ সম্পাদক মো. রনি ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাজরী হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মো. রকিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মো. রাসেল আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জাহেরুল ইসলাম এবং তথ্য ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হায়াত আনোয়ার। কমিটিতে বাকি ৪৩ জনকে নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
