যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলা
গাজায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা মানছে না ইসরায়েলি বাহিনী। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা এই চুক্তির তোয়াক্কা না করে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে তারা। সর্বশেষ গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন, বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসেও গুলিতে একটি শিশুসহ দুজন আহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে যেসব এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সরে যাওয়ার কথা ছিল, সেসব এলাকা থেকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় এক ফিলিস্তিনি যুবক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া রাফাহতে বিমান হামলা এবং জাবালিয়া ও তুফফাহ এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সমুদ্র উপকূল থেকেও নৌবাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
হামলা চালানোর পাশাপাশি গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহে কঠোর বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। তীব্র শীতের মধ্যে গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষ তাবু খাটিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনর্গঠনে অন্তত ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
গাজার এই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই হামাস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি প্রশাসনিক কমিটিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই কমিটি গাজার সাধারণ মানুষের জন্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। তবে মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্ব ও অব্যাহত হামলার কারণে এমন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।