প্রমাণ হয়ে গেলো কারা বেশি নারী বিদ্বেষী : ফাতিমা জুমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) নির্বাচনে প্রচারণার প্রথম দিনই ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের নারী প্রার্থীদের নিয়ে নেতিবাচক আচরণ ও ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমা।
তিনি বলেন, ‘শিবির কিংবা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিরুদ্ধে তারা ন্যারেটিভ দাঁড় করায় যে, তারা নারী বিদ্বেষী। তারা নারীর স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা নারীদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। অথচ আমরা দেখতে পেয়েছি, যারা এই ফ্রেমিংগুলো করে, তারা কতখানি নারীকে ধারণ করে বা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, সেটা আমরা তাদের কার্যক্রমেই দেখতে পেয়েছি।’
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) চারুকলার সামনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের ব্যানার ছিড়ে ফেলার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন- ডাকসু নির্বাচন নিয়ে রিটের পর ব্যবস্থা নিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
ফাতিমা জুমা বলেন, ‘আমাদের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সাবিকুন নাহার তামান্না আপু, তার ছবি কিভাবে চিত্রায়ণ করা হয়েছে। সেখানে তারা শুধু নারী হেনস্থা করেছে বা নারী অবমাননা করেছে তা কিন্তু না। তারা ইসলামোফোবিক বা হিজাবফোবিক যেটা, সেটা চিত্রায়ণ করেছে। এই ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেলো কারা বেশি নারী বিদ্বেষী।’
তিনি বলেন, ‘এইভাবে ফ্রেম করতে যেয়ে তারা আরও একটি জিনিস করেছে। এখানে চারুকলা শিক্ষার্থী বনাম ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল করেছে। কিন্তু এই ঘটনা করেছে মাত্র তিনজন। এবং তারা অপরাধী। কিন্তু অপরাধীদের যখন আপনি শিক্ষার্থী হিসেবে ফ্রেম করতে চান সেটা প্রবলেমেটিক।’

‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ব্যানার ফেলে দিয়েছে এবং নারী প্রার্থীর ছবি বিকৃতি করেছে কয়েকজন। ছবি : ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলে
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেলের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের যারা বিভিন্ন পদপ্রার্থী রয়েছেন, সীমিত কয়েকজন বাদে কাউকেই সেভাবে কথা বলতে দেখছি না। এটা খুবই কনসার্নের যে, আমরা যাদেরকে নির্বাচিত করবো, তারা আসলে কতখানি কাজ করবে। তারা কতখানি নারী বান্ধব কাজ করবে, সেটা আসলে বোঝাই যাচ্ছে। যারা বিপক্ষ হওয়ায় কথা বলে না, তারা নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদের উপর কি চালাবে সেটা অনুমেয়।’
ফতিমা জুমা নিজেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে গত এক সপ্তাহে যে হেনস্থার শিকার হয়েছি, সেটা আপনারা দেখেছেন। সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর বুলিং থেকে শুরু সব ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছি। আমি সেগুলো নিয়ে বিচলিত নই, কারণ আমি সেইভাবে মানষিক শক্তি নিয়ে এসেছি। কিন্তু সবার যে সমান মানষিক শক্তি হবে বা এটাকে এইভাবে চলতে দেওয়া যাবে এমন তো কোনো কথা নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানিয়ে ফাতিমা জুমা বলেন, ‘আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এই জায়গাটায় যে, আমাদের মতো আরো ১০ জনকে এসে দাঁড়াতে হবে, এই বোধটা আসলে প্রশাসনের তৈরি হওয়া জরুরি। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করে নারীদের জন্য, এই জায়গাটাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হিসেবে তৈরি করা।’
প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে একটি ব্যানার টাঙিয়েছিল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই ব্যানার ফেলে দেয়। এরপর ব্যানারে থাকা নারী শিক্ষার্থীসহ অন্যদের ছবিগুলোকে বিকৃতভাবে অঙ্কন করেন।
এ ঘটনা নিয়ে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।