জাবিতে ভিক্ষুকের অবাধ বিচরণ, নেই প্রশাসনের নজরদারি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ে ভিক্ষুকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একসময় ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ, ক্যাফেটেরিয়া ও আবাসিক হলসংলগ্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সামনেও ভিক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে তাদের।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনেও কয়েকজন ভিক্ষুককে শিক্ষার্থীদের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায়। এতে গ্রন্থাগারে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরক্তি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব মণ্ডল বলেন, “লাইব্রেরি এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরিবিলি পরিবেশে পড়াশোনা করতে আসে। এখন লাইব্রেরির সামনেও ভিক্ষুকদের অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়মিত হলে পড়াশোনার পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নিশান খান বলেন, “আমরা অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিয়মিত ভিক্ষাবৃত্তির স্থানে পরিণত করা উচিত নয়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষুকদের ঘোরাফেরা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। প্রশাসনের উচিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভিক্ষুকদের অবাধ বিচরণ বাড়ছে। বিশেষ করে একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সামনে তাদের উপস্থিতি নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালযয়ের সিকিউরিটি অফিসার মো. জিন্নাহ জানান, আমরা আমাদের মূল গেটগুলোতে গার্ডদের বলে দিয়েছি যেনো কোনো ভিক্ষুক ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করে। তবুও কিছু ভিক্ষুক ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লে আমরা খবর পেলে তাদের সাথে সাথেই বের করে দেই।