মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলো নবম জাতীয় পে-স্কেল

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলো নবম জাতীয় পে-স্কেল

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলো নবম জাতীয় পে-স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে নতুন এই বেতন কাঠামোটি দুই অর্থবছরে মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেলে বেতন তুলতে পারবেন।

গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর অর্থ হলো—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বকেয়া বেতন পরবর্তীতে একসঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও কার্যকর তারিখ পেছাচ্ছে না।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ হলেই প্রজ্ঞাপন জারির পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে।

এর আগে বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড ঠিক রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

তবে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি তা পর্যালোচনা করে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে:

প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ৩৫ শতাংশ যোগ হবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ: বাকি অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই ও পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কৌশলের ফলে একদিকে যেমন কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণ হবে। অন্যদিকে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বা বাজেটে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।