জাবিতে সাবেক শিক্ষার্থীকে গালিগালাজের অভিযোগ, ভিন্ন বর্ণনা দিলেন অভিযুক্ত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক সাবেক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের এক বর্তমান শিক্ষার্থীর অসদাচরণ, অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। এরপর বিষয়টি ক্যাম্পাসের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই সাবেক শিক্ষার্থী তাঁর শিশু সন্তান ও ছোট ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। একটি প্যাডেল রিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সামনে পড়লেও তাৎক্ষণিক ব্রেক করায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, অপর মোটরসাইকেলে থাকা জুনায়েদ আল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক নারী আরোহী প্রথমে ঘটনাস্থল অতিক্রম করে গেলেও পরে ফিরে এসে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় জুনায়েদ ভুক্তভোগীর ছোট ভাইকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর ছোট ভাইকে তাঁর ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে আপত্তি জানানো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। একপর্যায়ে জুনায়েদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা নারী আরোহী ভুক্তভোগীকে মা-বাবা তুলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তাদের পথরোধ করে আবারও হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর ছোট ভাইকে মারধরের হুমকি এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জুনায়েদ আল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছিল, এটা সত্য। তবে আপু যেভাবে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, সেটি পুরোপুরি সত্য নয়। টারজানের ওই রাস্তায় আসার পথে তারাই উল্টো পথে আসছিলেন। আমি যদি তখন মোটরসাইকেলের ব্যালেন্স ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারতাম, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে তিনি আগে ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের মতো করে ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং আমার ও আমার সঙ্গে থাকা বান্ধবীর বিরুদ্ধে ‘স্লাট শেমিং’ করেছেন।”
গালিগালাজ ও বাকবিতণ্ডার বিষয়ে জুনায়েদের দাবি, “ঘটনাটি তাদের ভুলের কারণেই ঘটেছিল এবং তারাই আগে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। ওই আপু প্রথমে আমার পরিবার নিয়ে কথা বলেন এবং আমাদের ‘স্লাট শেমিং’ করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
অন্যদিকে, ফেসবুক পোস্টে ভুক্তভোগী সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, নিজের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সামনে এমন ঘটনার শিকার হয়ে তিনি মর্মাহত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা এই ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ কোনো পক্ষ থেকেই পাইনি। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে তবে এই বিষয়ে কাজ করতে পারবো।