ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোতে মিশর
এবারই প্রথম বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল মিশর। সেই বিশেষকে আরও রঙিন করে তুলল ‘অল রেড’রা। পূর্ণ সময়ের খেলায় লড়াইটা হলো সমানে সমান। দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমিয়ে তুলল ম্যাচ। সমতায় থাকা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হলো টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল মিশর।
শুক্রবার (৩ জুলাই) নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিশর।
এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসেই বারের ওপর দিয়ে বল মেরে বসেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। মিশরের পক্ষে মাহমুদ সাবের প্রথম শটেই দলকে এগিয়ে নেন। অস্ট্রেলিয়ার জ্যাকসন আরবিন দ্বিতীয় শটে গোল করে দলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও মিসর তাদের দ্বিতীয় শটেও সফল হয়।
অজিদের হয়ে তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শট নিতে এসে হেরিংটন মিস করায় আরেকবার বেকায়দায় পড়ে সকারুজরা। মিশরের চতুর্থ শট নিতে এসে আবদেল মাগিদ বল জালে জড়াতেই বাঁধভাঙা উৎসবে মেতে ওঠে পুরো মিশর শিবির।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা মিশর ১৩তম মিনিটেই লিড পেয়ে যায়। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় তারা। যেখানে দলের পোস্টারবয় মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস বাড়ান ইমাম আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ। পুনরায় ভেসে আসা বলে পেছনের পোস্টে ওত পেতে থাকা আশুর এবার নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন।
২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফারাওরা। ফাতির বাড়ানো চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে যান জিকো। বল পায়ে তীব্র গতিতে অস্ট্রেলিয়ার ডি-বক্সের দিকে ছুটে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাম পোস্টের পাশ দিয়ে বল মাঠের বাইরে মারেন তিনি
দ্বিতীয়ার্থে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। ফলস্বরূপ, ৫৫তম মিনিটে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির করা এক আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে ওশেনিয়ার দলটি। ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি হানি, উল্টো বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একাধিক আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মোহাম্মদ হানি। এর আগে বিশ্বকাপে মোট ৬৫ জন আত্মঘাতী গোল করলেও কেউই একটির বেশি করেননি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এক অবিশ্বাস্য সেভে অস্ট্রেলিয়াকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচান গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ। উড়ে আসা বলে মিশরের রাবিয়ার জোরালো হেডটি নিশ্চিতভাবেই জালের ওপরের অংশে জড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু বিচ নিজের শরীরের ভর চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করে লাফিয়ে উঠে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তবে এই ৩০ মিনিটেও রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।
