গৃহযুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন শুরু হলো মিয়ানমারে
মিয়ানমারে এখনো চলছে গৃহযুদ্ধ। এ অবস্থায়ই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচন। ধীরে ধীরে ভোটাররাও আসতে শুরু করেছেন ভোটকেন্দ্রে। পাঁচ বছর আগে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর, জান্তা সরকার তাদের ভাষায় ‘গণতন্ত্রে ফেরার’ অংশ হিসেবে এই নির্বাচনের আয়োজন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এবারের নির্বাচনে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল অং সান সু চির ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’ (এনএলডি) অংশ নিতে পারছে না। জান্তা সরকার দলটিকে আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চি এখনো কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
সু চির অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনকে পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ‘প্রহসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিরোধীদের দমন করে আয়োজিত এই নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মিত্র ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র জয় এক প্রকার নিশ্চিত।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে তিন ধাপের নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে। আজকের ভোটের উল্লেখযোগ্য নির্বাচনি এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াংগন, মান্দালয় ও রাজধানী নেইপিডু।
ইয়াঙ্গুনের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ৬৩ বছর বয়সী বো সাউ বলেন, “দেশের জন্য এই নির্বাচন জরুরি। আমাদের প্রথম চাওয়া হলো শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসা।”
সুয়ে মাউ নামের ৪৫ বছর বয়সী আরেক ভোটার আন্তর্জাতিক সমালোচনার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। সবসময় মানুষের পছন্দ বা অপছন্দের একটি বিষয় থাকবেই।’
তবে বিপরীত মেরুর মানুষও আছেন। দুই মাস ধরে পালিয়ে বেড়ানো ৪০ বছর বয়সী মো মো মিন্ট ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “যারা আমাদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে, তাদের নির্বাচনে কেন সমর্থন দেব? আমরা ঘর হারিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া অসম্ভব।”
মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশটি সামরিক শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। মাঝখানে কেবল ১০ বছর বেসামরিক শাসনের আলো দেখেছিল ৫ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি।
২০২০ সালের নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে আবারও ক্ষমতা দখল করা হয়। এরপর সু চিকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দেশটির সব জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের তোপের মুখে পড়া জান্তা সরকার বিশ্বকে দেখানোর জন্যই এই নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের আয়োজন করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরানোর বদলে সামরিক শাসনকেই নতুন মোড়কে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা।