জাবির ইতিহাস বিভাগে র্যাগিং অভিযোগ, ১২ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গভীর রাতে র্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে বিভাগেরই একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্তরাও র্যাগিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ফোন করে প্রথমে মহুয়া মঞ্চে এবং পরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে যেতে বলা হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর তাদের মাঠসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর কথা বলে বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. এহসানুল হক বলেন, “আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ফরমাল পরিচয়ের নামে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে জাকসুর নেতারা ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করেন।”
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাজ খান দাবি করেন, “এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে একাধিকবার নবীনদের গভীর রাতে ডেকে এনে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।”
এদিকে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ডেকে এনে র্যাগিং করা হয়েছে।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, “রাত দুইটার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেন।”
তিনি আরও বলেন, “র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে পুরো ক্যাম্পাস যখন সোচ্চার, তখন এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর বিরুদ্ধে জাকসু কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, “অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
