পদত্যাগ করলেন রাবির ছাত্র উপদেষ্টা
শিক্ষার্থীদের মাঝে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ও ভরসার জায়গা তৈরি করতে না পারার তীব্র আক্ষেপ ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম কনক।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর দুইটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত টাইমলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রের ছবি প্রকাশ করে তিনি এই ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক, একাডেমিক ও গবেষণামূলক ব্যস্ততা বৃদ্ধিকেও এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
লিখিত পত্রে অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর পক্ষে এই পদের গুরুদায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে আকস্মিক এই পদত্যাগের প্রকৃত কারণ জানতে চাইলে অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট উত্তরণে পাশে থাকার এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে অনেক শিক্ষার্থীকে চরম হতাশা ও মানসিক অবসাদ থেকে ফিরিয়ে এনেছি, তাঁরা এখন স্বাভাবিক জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত। এরপরও কেন শিক্ষার্থীরা এমন আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে? যেকোনো সংকটে তাঁরা তো অন্তত একবার ছাত্র উপদেষ্টার পরামর্শ নিতে পারত!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, আমি শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই কাঙ্ক্ষিত আস্থা ও ভরসার জায়গা তৈরি করতে পারিনি। এই নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (১০ জুন) দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। এই ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরোনোর আগেই পদত্যাগ করেন অধ্যাপক কনক।