কাতারকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ঐতিহাসিক জয় কানাডার
শুরু থেকে শেষ—ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে ম্যাচ জুড়ে চলল কেবল এক দলেরই দাপট। কানাডার একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হাঁফিয়ে উঠল এশিয়ার দেশ কাতার। দুই অর্ধে রক্ষণের বড় দুটি ভুলে দুইবার লাল কার্ড দেখে ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের ওপর রীতিমতো গোল উৎসব চালাল স্বাগতিকরা।
দুই অর্ধে তিনবার করে মোট ছয়বার কাতারের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল কানাডা।
বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৪টায় ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কানাডা। দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিড। এই মহাকাব্যিক জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে নিল কানাডিয়ানরা।
১৯৮৬ সালে অভিষেক এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ মিলিয়ে এর আগে দুটি আসর খেললেও কোনো জয়ের মুখ দেখেনি কানাডা। অবশেষে নিজেদের মাটিতে তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা, তাও আবার গোলবন্যার এক রাজকীয় রেকর্ডে।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই বল দখলে রেখে কাতারের রক্ষণভাগে প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে কানাডা। গোলের জন্য স্বাগতিকদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কাইল লারিনের চমৎকার এক শটে এগিয়ে যায় তারা।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জনাথন ডেভিড। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের বেশ দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন টেজন বুকানন। কাতারি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হলে সামনেই থাকা জনাথন নিখুঁত এক ভলিতে বল জালে পাঠান।
এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৩১তম মিনিটে ম্যাচে বড় ধাক্কা খায় কাতার। আক্রমণে ওঠা বুকাননকে ফাউল করে বসেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম ইলামিন। রেফারি শুরুতে পেনাল্টি ও হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর চেকে সিদ্ধান্ত বদলে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক এবং হোমামকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
১০ জনের কাতারকে পেয়ে কানাডা আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পান জনাথন ডেভিড। বামপ্রান্ত থেকে অ্যালিস্টেয়ার জনস্টনের ক্রসে কাইল লারিনের দুর্দান্ত হেড কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা ঠেকিয়ে দিলেও বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বলে আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করেন জনাথন।
বিরতির পর ফিরেও কানাডার আক্রমণের সুনামি থামেনি। কড়া আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে এবার ভুল করে বসেন কাতারের আসিম মাদিবো। বক্সের ঠিক বাইরে মারাত্মক ফাউল করে বসেন ইসমাইল কোনাতে কে। তার চোটের অবস্থা দেখে মাঠেই কেঁদে ফেলেন কানাডার কয়েকজন ফুটবলার। এমনকি মাদিবো নিজেও হতবাক হয়ে যান। রেফারি তাকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। ফলে কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে কানাডার আলি আহমেদকে বক্সের সামনে আহমেদ ফাথি ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় স্বাগতিকরা। সেই ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি নেওয়া নিখুঁত শটে কাতারকে চতুর্থবারের মতো স্তব্ধ করে দেন নাথান সালিবা।
এরপর ৭৪তম মিনিটে কাতারের বক্সে টানা তিনবার হানা দেয় কানাডা। প্রথম দুইবারের শট ডিফেন্স দেওয়ালে আটকে গেলেও, তৃতীয়বারে বক্সের মাথা থেকে দূরের পোস্টে কোনাকুনি শট নেন জেকব শাফেলবার্গ। বল আটকাতে গিয়ে কাতারের মোহাম্মদ আল-মান্নাইয়ের গায়ে লেগে তা আত্মঘাতী গোলে রূপ নিলে কানাডা ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে ৯ মিনিট যোগ করেন রেফারি। সেই যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের বাইরে থেকে সালিবার নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নেন জনাথন ডেভিড। শরীরটাকে আলতো মোচড়ে ঘুরিয়ে দুর্দান্ত এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের চলতি আসরের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। বাকি সময়ে আরও কিছু আক্রমণ হলেও গোল না হওয়ায় ৬-০ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা।
