জাবিকে দেশের উচ্চশিক্ষার ‘মডেল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা : শিক্ষামন্ত্রী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি আধুনিক ও মডেল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেলে পরিণত করা সম্ভব।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ৫৫তম আবর্তনের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। ভৌগোলিক অবস্থান, বিশাল ক্যাম্পাস ও আবাসিক সুবিধার কারণে এটি দেশের উচ্চশিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, নার্সিং, মেডিকেল শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো সমন্বিত শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সম্প্রতি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রণীত নতুন আইনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কেও আরও আধুনিক ও বহুমাত্রিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু চাকরির প্রস্তুতি বা বিসিএসকেন্দ্রিক চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে অতিরিক্ত গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। অডিটোরিয়ামকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অতীতে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।